‘কে আগে মালা দেবে?’ শুভেন্দু বিজেপিতে যোগের পর নন্দীগ্রাম শহিদ দিবসে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা

শহিদ দিবস উপলক্ষে সোমবার আবারও রাজনৈতিক উত্তাপের কেন্দ্রে ছিল নন্দীগ্রাম। একই স্থানে, মাত্র কয়েক হাতের ব্যবধানে তৈরি করা হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির দু’টি পৃথক মঞ্চ। স্থানীয়রা বলছেন, ২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রতি বছর এই দিনটিতে এই ধরনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন দেখা যায়।
উভয় দলের মূল প্রতিযোগিতা যেন— কে আগে শহিদ বেদীতে পৌঁছাবে এবং শ্রদ্ধা জানাবে। এই দুই মঞ্চ সেই প্রতিযোগিতারই একটি শক্তিশালী মঞ্চ হিসেবে কাজ করছে। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেয়, যাতে দুই দল পাশাপাশি স্লোগান তুললেও কোনো বিবাদ না হয়। সেই কারণেই কর্মসূচির জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়।
এদিন সকাল ৮টা থেকে বেলা ১০টা পর্যন্ত রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সময় দেওয়া হয়েছিল। তিনি শহিদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জনতার উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন এবং বলেন, “আসল পরিবর্তন ২০১১ সালে হয়নি। আমরা ভুল করেছি। জনগণকে নিয়ে আমরাই আসল পরিবর্তন আনব।”
শুভেন্দুর কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরেই তৃণমূলের কার্যক্রম শুরু হয়। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির দেখভাল করেন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী।
অতীতে বামপন্থি সরকারের ‘অপারেশন সূর্যোদয়’-এর অংশ হিসেবে পালিত এই দিনটির গুরুত্ব অপরিবর্তিত থাকলেও, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন এই অনুষ্ঠানে একটি বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। নন্দীগ্রামে শহিদ দিবসের অনুষ্ঠান এখন কেবল শ্রদ্ধা প্রদর্শনের জায়গা নয়, এটি রাজনৈতিক কৌশল ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার এক শক্তিশালী মঞ্চ হিসেবে পরিচিত।