আইএসএলে ফের চরম কেলেঙ্কারি! বিতর্কিত গোলে গোয়াকে হারিয়ে মাঠ ছাড়ল বেঙ্গালুরু, ক্ষোভে ফুটছে ফুটবল মহল

ভারতীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে ফের একবার চরম বিতর্ক এবং রেফারির ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। আইএসএলের (ISL) এক অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে নাটকীয় গোল করে এফসি গোয়াকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করেছে বেঙ্গালুরু এফসি। চলতি টুর্নামেন্টে পরপর দুটি ম্যাচে ঠিক ইনজুরি টাইমের সুবাদে জয় ছিনিয়ে নিলেও, গোয়ার বিরুদ্ধে এই জয়ের পদ্ধতি নিয়ে এখন গোটা দেশের ফুটবল মহলে তীব্র ঝড় উঠেছে। পরাজিত এফসি গোয়া শিবির এবং তাদের ক্ষুব্ধ সমর্থকরা সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, সম্পূর্ণ অনৈতিক ও নিয়মবহির্ভূত উপায়ে রেফারিদের পক্ষপাতিত্বের সুযোগ নিয়ে ম্যাচ জিতেছে বেঙ্গালুরু। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে ক্রীড়া প্রেমিদের আড্ডায় এই ম্যাচটিকে ঘিরে এখন সমালোচনার ঝড় বইছে।

ম্যাচের একেবারে শেষ লগ্নে অর্থাৎ ৯০+১ মিনিটের খেলায় যখন দুই দলের স্কোর ১-১ গোলে সমতায় ছিল, তখনই এই চরম বিতর্কের সূত্রপাত হয়। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের পর রেফারি মোট চার মিনিট অতিরিক্ত সময় বা ইনজুরি টাইম ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় গোয়ার ফুটবলাররা আক্রমণ শানাতে শানাতে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের কাছাকাছি পৌঁছে যান। অভিযোগ, ঠিক সেই মুহূর্তেই বেঙ্গালুরুর এক ডিফেন্ডার পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মেরে গোয়ার ফরোয়ার্ডকে ফেলে দেন। স্বাভাবিকভাবেই গোয়া শিবির পেনাল্টি বা ফাউলের জোরালো আবেদন জানালে রেফারি তা সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান। উলটে গোয়ার ফুটবলাররা রেফারির সঙ্গে প্রতিবাদ করায় বাংলার অভিজ্ঞ রেফারি প্রতীক মণ্ডল তাঁদের হলুদ কার্ড দেখিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।

তবে আসল বিতর্ক শুরু হয় এর ঠিক পরেই। ফাউলের পর যখন খেলা থামানোর জন্য বাঁশি বাজানো হয়, তখন বেঙ্গালুরুর ডিফেন্ডার চিংলেনসানা সিং বলটি ইচ্ছাকৃতভাবে সজোরে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেন। ফুটবলের সর্বজনীন নিয়ম অনুযায়ী, এই পরিস্থিতিতে থ্রো-ইন পাওয়ার কথা ছিল এফসি গোয়ার। কিন্তু অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে নিয়ম লঙ্ঘন করে বেঙ্গালুরু এফসির ফুটবলারই সেই থ্রো-ইন নেন এবং সেখান থেকেই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক গড়ে তুলে বিজয়ী গোলটি আদায় করে নেয় বেঙ্গালুরু। রেফারি এবং সহকারি রেফারিরা এই স্পষ্ট নিয়মভঙ্গকে সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান, যার ফলে মাঠের ভেতরেই তীব্র অসন্তোষ ছড়ায়। ম্যাচ শেষে রেফারিদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় গোয়ার সমর্থকরা তাঁদের তীব্র কটূক্তি করতে শুরু করেন।

সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ ফুটবলপ্রেমীরাও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, এটি কি দেশের শীর্ষ লিগ নাকি কোনো পাড়ার ক্লাবের অসংগঠিত টুর্নামেন্ট? মাঠে এতজন রেফারি ও লাইন্সম্যান থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন বড় ভুল সবার চোখ এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকরা এই ম্যাচকে আক্ষরিক অর্থেই একটি ‘সার্কাস’ বলে অভিহিত করেছেন। অনেকেই ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেছেন যে, কেরালার একটি সাধারণ স্থানীয় টুর্নামেন্ট যেখানে নিখুঁতভাবে ভিএআর (VAR) প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে, সেখানে ভারতের ১ নম্বর জাতীয় লিগ প্রতিযোগিতায় এখনও ভিএআর-এর অনুপস্থিতি ফুটবলের মান নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করছে। সবমিলিয়ে, এই বিতর্কিত জয়ের ফলে আইএসএলের গভর্ন্যান্স এবং রেফারিদের মান নিয়ে ফের কাঠগড়ায় উঠেছে এআইএফএফ (AIFF)।