১০ দিনের লুকোচুরি শেষ! পুলিশের চোখে ধুলো দিয়েও বাঁচতে পারল না নিষিদ্ধ সংগঠনের জোনাল কমান্ডার

ঝাড়খণ্ডের ত্রাস তথা লক্ষাধিক টাকার পুরস্কার ঘোষণা করা এক মোস্ট ওয়ান্টেড মাওবাদী নেতাকে পাকড়াও করল মহারাষ্ট্রের অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)। শনিবার মহারাষ্ট্রের থানে জেলা থেকে ওই কুখ্যাত মাওবাদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত মাওবাদী নেতার মাথার ওপর রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার বা মাথার দাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এই সফল অভিযানের ফলে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এক বড়সড় নাশকতার চক্রের সন্ধান মিলবে বলে আশা করছেন গোয়েন্দারা।
মহারাষ্ট্র পুলিশের এ টি এস সূত্রে জানা গেছে, ধৃত মাওবাদী নেতার নাম সঞ্জয় সারজু যাদব (৪৫)। তিনি মূলত ঝাড়খণ্ডের পালামৌ জেলার দেবগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। গোপন সূত্রে সুনির্দিষ্ট খবর পেয়ে এটিএস-এর একটি বিশেষ দল থানের ঠাকুরলি এলাকায় আচমকা অভিযান চালায়। আর সেই অতর্কিত অভিযান থেকেই তাঁকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর এটিএস আধিকারিকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, সঞ্জয় একটি নিষিদ্ধ উগ্রপন্থী মাওবাদী সংগঠনের অত্যন্ত সক্রিয় জোনাল কমিটির সদস্য। পুলিশের জাল থেকে বাঁচতে এবং গ্রেপ্তারির হাত থেকে সম্পূর্ণ রেহাই পেতে বিগত ১০ দিন ধরে তিনি মহারাষ্ট্রের এই ঠাকুরলি এলাকায় আত্মগোপন করে ছিলেন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি, শেষ পর্যন্ত গোয়েন্দা জালেই ধরা পড়তে হলো তাঁকে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত এবং মহারাষ্ট্রে তাঁর সুনির্দিষ্ট কী অসৎ উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখতে ধৃতকে লাগাতার জেরা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ঝাড়খণ্ডের অপর এক মোস্ট ওয়ান্টেড ও কুখ্যাত মাওবাদী নেতা অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ধরা পড়েছিলেন। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুরের ললাট এলাকা থেকে সিপিআই (মাওবাদী)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি-১-এর সম্পাদক আকাশকে গ্রেপ্তার করেছিল ঝাড়খণ্ড পুলিশ। প্রায় দেড় দশক ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন ওই শীর্ষ নেতা। কখনও পশ্চিমবঙ্গ, আবার কখনও ভিনরাজ্যের গভীর জঙ্গলে ডেরা বেঁধে নিজের অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই শেষ পর্যন্ত এসটিএফ তাঁকে পাকড়াও করতে সফল হয়। জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি ওড়িশা প্রশাসনও আকাশকে দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিল। ঝাড়খণ্ডের তরফে তাঁর মাথার দাম ধার্য করা হয়েছিল ১ কোটি টাকা এবং ওড়িশা প্রশাসনের তরফে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একে একে এই শীর্ষ মাওবাদীদের গ্রেপ্তার হওয়ার ফলে মাওবাদী নেটওয়ার্কে বড় রকমের ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।