সোমনাথ মন্দিরের ৫০ কিমি না ৫০০ মিটারের কড়াকড়ি? আমিষ বিক্রিতে সুপ্রিম কোর্টের বড় ধাক্কা!

সোমনাথ মন্দিরের চারপাশে আমিষ খাবার বিক্রির ওপর জারি থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে সাফ অস্বীকার করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। শুক্রবার এক গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, গুজরাট হাইকোর্টের অন্তর্বর্তী আদেশে এই মুহূর্তে তারা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। এর ফলে ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দিরের নির্দিষ্ট ব্যাসার্ধের মধ্যে আমিষ খাবার বিক্রি ও তৈরির ওপর নিষেধাজ্ঞা আপাতত বহালই থাকছে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি পি বি বরালের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ আদালত গুজরাট হাইকোর্টকে এই মামলার দ্রুত ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে।
গত ১০ আগস্ট গির সোমনাথ জেলার জেলাশাসকের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছিল। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয় যে, সোমনাথ মন্দিরের ৫০০ মিটারের মধ্যে কোনোভাবেই আমিষ খাবার তৈরি, বিক্রি বা সংরক্ষণ করা যাবে না। প্রশাসনের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে স্থানীয় রেস্তোরাঁ মালিকরা গুজরাট হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। প্রথমে হাইকোর্টের একক বেঞ্চ (সিঙ্গল বেঞ্চ) সেই নিষেধাজ্ঞা খারিজ করে দিলেও, মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে রাজ্য সরকার ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করে। এরপর হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ একক বেঞ্চের সেই আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে, যার ফলে নিষেধাজ্ঞা ফের বহাল হয়ে যায়।
ডিভিশন বেঞ্চের এই রায়ের বিরুদ্ধে সোমনাথের ক্ষুব্ধ রেস্তোরাঁ মালিকরা সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হন। শুনানিকালে আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, মন্দির চত্বরে আমিষ বিক্রি চিরতরে বন্ধ হয়ে গেলে তাঁদের ব্যবসা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাবে। তাঁরা আরও উল্লেখ করেন যে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ আমিষভোজী। উভয় পক্ষের সওয়াল শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে যে, সমাজে একটি ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আদালত এই মুহূর্তে অন্তর্বর্তী আদেশে হস্তক্ষেপ না করলেও হাইকোর্টকে আগামী ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে মামলার চূড়ান্ত রায়দান করার নির্দেশ দিয়েছে।