সিভিক ভলান্টিয়ারের রহস্যমৃত্যুতে রণক্ষেত্র ব্যারাক! খাওয়ার টাকা জোগাতে না পেরে চরম পরিণতি?

রাজ্যের দুই প্রান্তে দুই সিভিক ভলান্টিয়ারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। একদিকে জলপাইগুড়ির ডাবগ্রামে প্রশিক্ষণের মাঝেই রহস্যমৃত্যু হল এক যুবকের, অন্যদিকে কল্যাণী জেএনএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর পর চলল ব্যাপক ভাঙচুর। এই জোড়া ঘটনায় সিভিক ভলান্টিয়ারদের নিরাপত্তা ও কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।
ডাবগ্রামে সশস্ত্র বাহিনীর ব্যারাকে মাথাভাঙার বাসিন্দা পঙ্কজ বর্মনের দেহ উদ্ধার ঘিরে শুরু হয় প্রবল বিক্ষোভ। সহকর্মীদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণের সময় তাঁদের ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এমনকি প্রশিক্ষণে এসেও তাঁদের নিজেদের খাওয়ার খরচ নিজেদেরই বহন করতে হচ্ছিল বলে অভিযোগ। পঙ্কজকে খাওয়ার খরচ বাবদ ৮১০ টাকা দিতে হয়েছিল, যা নিয়ে তিনি অত্যন্ত চিন্তিত ছিলেন। প্রশিক্ষকদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে মৃতদেহ আটকে বিক্ষোভ দেখান প্রশিক্ষণরত সিভিক ভলান্টিয়াররা। পুলিশ সূত্রে যদিও জানানো হয়েছে, খাওয়ার খরচ রাজ্য সরকারের দেওয়ার কথা। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে দেহ পাঠাতে গেলে দীর্ঘক্ষণ পুলিশকে বাধা দেন বিক্ষোভকারীরা।
অন্যদিকে, কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালেও একইরকম উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। মৃত সিভিক ভলান্টিয়ার তাপস সাহা উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুর থানায় কর্মরত ছিলেন। শনিবার কাজ সেরে ফেরার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই খবর ছড়াতেই বীজপুর থানার সিভিক ভলান্টিয়ার ও পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের পুরুষ মেডিসিন বিভাগে ঢুকে ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষে কল্যাণী থানার পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। কর্মব্যস্ত হাসপাতালে এমন তাণ্ডবে রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।