ছোটি দিওয়ালির আসল সত্যি! কেন ১৬,১০৮ জন রূপসীকে বন্দি বানিয়েছিল দানব নরকাসুর?

কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি সনাতন ধর্মে ‘নরক চতুর্দশী’ বা ‘ছোটি দিওয়ালি’ হিসেবে পালিত হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও পৌরাণিক সাহিত্য অনুযায়ী, এই বিশেষ দিনটি কেবল আলোর উৎসবের সূচনা নয়, বরং পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের হাতে ভয়ংকর ও অহংকারী অসুর ‘নরকাসুর’ বধের প্রতীক।
তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, এই নরকাসুর ঠিক কে ছিল এবং কেনই বা সে তৎকালীন মর্ত্য ও স্বর্গলোকের ১৬,১০৮ জন রূপসী যুবতীকে নিজের প্রাসাদে বন্দি করে রেখেছিল!
নরকাসুরের তাণ্ডব ও স্বর্গের দেবগণের হাহাকার
পৌরাণিক কথন অনুসারে, প্রাচীনকালে প্রাগজ্যোতিষপুর রাজ্যের শাসক ছিল অতি পরাক্রমশালী অথচ পরম নিষ্ঠুর অসুর নরকাসুর। নিজের বিপুল দৈহিক শক্তি ও বরদানের অহংকারে সে অন্ধ হয়ে উঠেছিল। শুধু মর্ত্যের সাধারণ মানুষ বা ঋষি-মুনিরাই নন, স্বর্গের দেবতারাও তার তাণ্ডবে তটস্থ থাকতেন।
নরকাসুর এতটাই ঔদ্ধত্য দেখিয়েছিল যে, স্বর্গের অপ্সরা, ঋষিকন্যা এবং বিভিন্ন রাজপরিবারের মোট ১৬,১০৮ জন মহীয়সী ও রূপসী নারীকে বলপূর্বক অপহরণ করে নিজের দুর্গে বন্দি করে রেখেছিল। তার অত্যাচারে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডে কান্নার রোল উঠেছিল এবং তাকে থামানোর মতো সাধ্য কারও ছিল না।
শ্রীকৃষ্ণ, সত্যভামা ও ঐতিহাসিক অসুর বধ
নরকাসুরের ক্রমবর্ধমান নারকীয় তাণ্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে স্বর্গের দেবরাজ ইন্দ্র এবং ঋষিরা দ্বারকাধীশ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শরণাপন্ন হন। নরকাসুরকে এক বিশেষ বর দেওয়া হয়েছিল যে, সে কেবল কোনো নারীর হাতেই পরাস্ত ও নিহত হতে পারবে।
সেই বিধিসম্মত বিধান মেনেই শ্রীকৃষ্ণ তাঁর ধর্মপত্নী দেবীকে সঙ্গে নিয়ে প্রাগজ্যোতিষপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। শুরু হয় এক মহাযুদ্ধ। দেবীর সহায়তায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাঁর সুদর্শন চক্রের আঘাতে ধূলিসাৎ করে দেন নরকাসুরকে।
কেন পালিত হয় নরক চতুর্দশী?
নরকাসুরকে বধ করার পর ভগবান শ্রীকৃষ্ণ সেই ১৬,১০৮ জন বন্দি নারীকে মুক্ত করেন। কিন্তু তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় এই নারীদের গ্রহণযোগ্যতা ও সম্মান রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তখন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ সামাজিক সম্মান ফিরিয়ে দিতে তাঁদের সবাইকে পত্নী হিসেবে গ্রহণ করার ঘোষণা দেন এবং তাঁদের রক্ষা করেন।
নরকাসুরের বিনাশ এবং অসুরের বন্দিদশা থেকে এই বিপুল সংখ্যক নারীর মুক্তি পাওয়ার আনন্দেই অন্ধকার দূর করে মর্ত্যে প্রদীপ জ্বালানো হয়েছিল। আর সেই থেকেই এই কার্তিক চতুর্দশী তিথি ‘নরক চতুর্দশী’ ও ‘ছোটি দিওয়ালি’ নামে বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয়ে আসছে।