সম্পর্ক বাধার জেরে চরম পরিণতি! নাতির ২৪ কোপে ঘুমন্ত দিদিমাকে নৃশংস খুন, রক্তে ভিজল বিছানা

বিহারের গোপালগঞ্জ জেলায় এক নৃশংস ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গোটা এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পারিবারিক দ্বন্দ্ব এবং প্রেমের সম্পর্কে দিদিমার বাধা দেওয়ার জেরে ২১ বছরের এক নাতি ঘুমন্ত অবস্থায় ৮৫ বছরের বৃদ্ধাকে ২৪ বার ছুরিকাঘাত করে অত্যন্ত নির্মমভাবে খুন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের কাটেয়া থানা এলাকার বানরাহান গ্রামে। নিহত বৃদ্ধার নাম কৈলাসি খাতুন (৮৫)। অভিযুক্ত নাতির নাম সাহেব হোসেন (২১), সে ভোর থানা এলাকার ইমিলিয়া গ্রামের আনোয়ার মিয়ার ছেলে। ছোটবেলা থেকেই সাহেব তার মামার বাড়িতে বানরাহান গ্রামে থাকত।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত যুবক তার নিজ মামার মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ বৃদ্ধা দিদিমা কৈলাসি খাতুন এই সম্পর্কের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। এই নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও পারিবারিক বিবাদ চলছিল।
ঘুমন্ত অবস্থায় নৃশংস হামলা
গত রবিবার রাতে রাতের খাবার সেরে সাহেব হোসেন তার দাদি ও ছোট চাচাতো ভাইয়ের সঙ্গে একই ঘরে ঘুমাতে যায়। এরপর মাঝরাতে—প্রায় রাত দুটো নাগাদ—হঠাৎ সে ঘুম থেকে জেগে ওঠে এবং একটি ধারালো ছুরি দিয়ে তার দাদির ওপর চড়াও হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বৃদ্ধার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে উপর্যুপরি দুই ডজনেরও বেশি অর্থাৎ ২৪ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। গুরুতর ও গভীর আঘাতের ফলে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই বৃদ্ধা।
চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি ও গ্রেপ্তার
ঘটনার সময় ঘরে থাকা নিহত বৃদ্ধার ছোট চাচাতো ভাই এই ভয়দৃশ্য দেখে চরম আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করতে করতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। তার গোঙানি ও চিৎকারে আশেপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে এলেও ততক্ষণে সব শেষ হয়ে যায়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত অভিযোগে অভিযুক্ত নাতি সাহেব হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরকীয়া বা পারিবারিক সম্পর্কের জেরে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পুরো গ্রাম জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।