সঞ্চয়ে বড় ধস! বিদেশি বিনিয়োগকারীদের পলায়ন ও ডলারের ঝড়ে হুড়মুড়িয়ে নামল সেনসেক্স-নিফটি

অক্টোবরের শুরুটা ভারতীয় শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ও উদ্বেগের হয়ে উঠেছে। দুর্বল বৈশ্বিক সংকেত এবং তীব্র বিক্রির চাপে আজ সকাল থেকেই দালাল স্ট্রিটে বড় ধস নেমেছে। সপ্তাহের এই কার্যদিবসে লেনদেন শুরু হতেই সেনসেক্স ২৮৭.৪০ পয়েন্ট কমে ৭২,১৯২.৮৯ পয়েন্টে এবং নিফটি ৭৬.৭৫ পয়েন্ট পতনের সঙ্গে ২২,৫৪৩.৭০ পয়েন্টে নেমে আসে। বেলা গড়াতেই পরিস্থিতি আরও শোচনীয় হয়ে ওঠে এবং দুপুর ১টার দিকে সেনসেক্স প্রায় ৭৮৬ পয়েন্ট ধসে ৭১,৭৬১ পয়েন্টে ও নিফটি ২৪৭ পয়েন্ট কমে গুরুত্বপূর্ণ ২২,৪০ই স্তরের নিচে নেমে যায়। এই ব্যাপক পতনের জেরে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (বিএসই) মোট বাজার মূলধন ৪,৭১,৮৬,৩৮০.৭৪ কোটি টাকা থেকে কমে ৪,৬৩,২৮,৯০১.৮৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যার ফলে শুধুমাত্র দিনের প্রথমার্ধেই বিনিয়োগকারীদের পকেট থেকে উধাও হয়ে গেছে ৮,৫৭,৪৭৮.৮৭ কোটি টাকা।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রক্তক্ষয়ী পতনের পিছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমত, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) লাগাতার বাজার থেকে পুঁজি তুলে নিচ্ছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তারা এক দিনে ১০,১৪৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। জিওজিত ইনভেস্টমেন্টসের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ ভিকে বিজয়াকুমারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনে এফআইআই-রা মোট ২০,১২৮ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছেন। মার্কিন ১০-বছরের বন্ডের ইল্ড বেড়ে ৫.৩% হওয়ায় এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। দ্বিতীয়ত, মার্কিন ডলার সূচক তিন মাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানোর ফলে ভারতীয় রুপির তীব্র অবমূল্যায়ন ঘটেছে। রুপি ০.১৬ শতাংশ দুর্বল হয়ে প্রতি ডলারে ৯৫.৯৫-এ নেমে যাওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ডলারের দিকে ঝুঁকছেন। তৃতীয়ত, বাজারের ভয় ও অস্থিরতার পরিমাপক ‘ইন্ডিয়া ভিক্স’ প্রায় ৫ শতাংশ লাফিয়ে ১৪.১৩-তে পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাজারের এই চরম অস্থিতিশীলতার মুখে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সঠিক কৌশল নির্ধারণ করা অত্যন্ত জরুরি। বাজার বিশ্লেষক বিপিন ডিসেনা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, কেবল শেয়ারের দাম কমছে বা সস্তা হয়েছে বলেই তাতে অন্ধের মতো বিনিয়োগ করা উচিত নয়। যখন বাজারে প্রযুক্তিগত দুর্বলতা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়, তখন কেবল মৌলিকভাবে শক্তিশালী এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কোম্পানিগুলোর ওপর ভরসা রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।