আইএএস পদ ছাড়ছেন ওড়িশার সিইও আর এস গোপালন! এসআইআর বিতর্কের মাঝেই ভিআরএস চেয়ে শোরগোল

ওড়িশার রাজনৈতিক মহলে আচমকাই বড়সড় প্রশাসনিক ঝড় তুলেছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তা (সিইও) আর এস গোপালনের স্বেচ্ছাবসরের (VRS) আবেদন। ২০০১ ব্যাচের অভিজ্ঞ এই আইএএস কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দেড় বছর আগেই ভিআরএস চেয়ে আবেদন করেছেন। ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে ওড়িশার সিইও হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি তিনি আবগারি বিভাগের সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্বেও ছিলেন। ২০২৮ সালের জুন মাসে তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এই হঠকারী পদক্ষেপে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

বিশেষ করে ওড়িশায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে চলমান তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের ঠিক পরেই তাঁর এই আবেদন সামনে আসায় জল্পনা দ্বিগুণ হয়েছে। ২১শে সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা যায়, রাজ্যজুড়ে প্রায় ১৭.৬৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। এসআইআর-এর আগে রাজ্যে ৩৩,৩৯৯,৫৯১ জন ভোটার থাকলেও চূড়ান্ত তালিকায় সংখ্যাটি কমে দাঁড়িয়েছে ৩১,৬৩২,৭৫৪ জনে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত, স্থানান্তরিত, নকল বা খুঁজে না পাওয়া ভোটারদের নামই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ায় বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুললে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।

বিতর্ক বাড়লেও নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে মুখ খুলেছেন আর এস গোপালন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর স্বেচ্ছাবসরের আবেদনের সঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিন্দুমাত্র কোনো সম্পর্ক নেই। সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও স্বাস্থ্যগত কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং কিছু ব্যক্তিগত বিষয়ে মনোনিবেশ করতে চান। তিনি আরও জানান, গত বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি চাকরি ছাড়ার কথা ভাবছিলেন, তবে এসআইআর প্রক্রিয়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করে গেছেন। প্রায় ২৫ বছরের বর্ণাঢ্য প্রশাসনিক ক্যারিয়ারে তিনি ইউআইডিএআই-এর উপ-মহাপরিচালক, শ্রম বিভাগের সচিব এবং কৃষি পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সাফল্যের সঙ্গে সামলেছেন।

অবশ্য ওড়িশা প্রশাসনিক মহলে বড় পদত্যাগের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ওড়িশা ক্যাডারের আইপিএস কর্মকর্তা জগমোহন মীনাও চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছিলেন এবং সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে। সবমিলিয়ে, নির্বাচন কমিশনের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল পদে থেকে সিইও-র এই ভিআরএস আবেদন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বর্তমানে তাঁর এই আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া বাকি রয়েছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণকে কতটা প্রভাবিত করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।