শুভেন্দুর গড়ে বড় ধাক্কা! বিধানসভায় শপথ নিলেন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের দুই নতুন বিজেপি বিধায়ক

আজ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। সকল জল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় আনুষ্ঠানিকভাবে শপথগ্রহণ করলেন সদ্য সমাপ্ত উপনির্বাচনে জয়ী দুই বিজেপি বিধায়ক। এর মধ্যে রয়েছে হাই-ভোল্টেজ নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে জয়ী বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথ এবং রেজিনগর কেন্দ্র থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়া বিজেপি বিধায়ক শাখারভ সরকার। অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিধানসভার অন্দরে তাঁদের এই শপথগ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হয়, যার জেরে আজ সকাল থেকেই গোটা রাজ্যবাসীর নজর ছিল বিধানসভার কার্যক্রমের দিকে।
বিরোধী দলের দুই নতুন বিধায়কের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়েছে বহুগুণ। একদিকে যখন নন্দীগ্রামের মতো রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর আসনে বিজেপির জয় ধরে রাখা নিয়ে চর্চা চলছে, ঠিক তেমনই রেজিনগরের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় গেরুয়া শিবিরের জয়জয়কার রাজ্য রাজনীতির সমীকরণ অনেকটাই বদলে দিয়েছে। বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে দুই নতুন বিধায়কের শপথ নেওয়ার দৃশ্য আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে শাসক বনাম বিরোধী দলের লড়াইকে যে আরও তীব্র করবে, তা বলাই বাহুল্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুই নেতার সংযুক্তি বিরোধী পক্ষের শক্তিকে আরও কিছুটা চাঙ্গা করবে।
তবে বিধানসভার এই হাই-ভোল্টেজ শপথগ্রহণ পর্ব মিটতেই এবার সমস্ত লাইমলাইট সরে গিয়েছে কলকাতার নবান্নের দিকে। বিধানসভার আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ হওয়ার পরেই আজ দুপুরে সোজা নবান্নে এক জরুরি ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, বেলা ১২টা নাগাদ শুরু হতে চলা এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের বর্তমান কাজের গতিপ্রকৃতি, বিভিন্ন চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি এবং আগামী দিনের প্রশাসনিক কৌশল নিয়ে বিশদ পর্যালোচনা করা হবে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং উন্নয়নের বিভিন্ন দিক এই বৈঠকে প্রাধান্য পেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সবমিলিয়ে, বিধানসভায় দুই নতুন বিজেপি বিধায়কের শপথগ্রহণ এবং ঠিক তার পরেই নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর এই মেগা মন্ত্রিসভার বৈঠক—এই দুটি ভিন্ন ঘটনা আজ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে একযোগে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কোন দিকে এগোয় এবং নবান্নের এই ক্যাবিনেট বৈঠক থেকে কী ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নির্দেশিকা জারি হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে আপামর রাজ্যবাসী।