রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলা কে এই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার? আইআইটি থেকে হার্ভার্ড—জ্ঞানেশ কুমারের ডিগ্রি জেনে অবাক হবেন!

জাতীয় রাজনীতির উত্তাপ এখন চরমে। বিরোধী শিবিরের ক্রমাগত পদত্যাগের দাবি এবং রাজধানী দিল্লিতে জেন জি (Gen Z)-র ধারাবাহিক আন্দোলনের জেরে এই মুহূর্তে দেশজুড়ে তুমুল চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দেশের ২৬তম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার।
২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ভারতের শীর্ষ নির্বাচনী পদে দায়িত্ব গ্রহণকারী এই প্রবীণ আধিকারিকের বিরুদ্ধে যেমন রাজনীতির পারদ চড়ছে, তেমনই অন্যদিকে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কর্মজীবনের অসাধারণ রেকর্ড নজর কাড়ছে সর্বস্তরে।
উত্তরপ্রদেশের মেধাবী ছাত্র থেকে আইআইটি কানপুরের ডিগ্রি
১৯৬৪ সালে উত্তরপ্রদেশের আগ্রায় জন্ম নেওয়া জ্ঞানেশ কুমারের শৈশব ও প্রাথমিক শিক্ষাজীবন কেটেছে গোরক্ষপুর, লখনৌ ও কানপুরে। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত উজ্জ্বল এই আধিকারিক ১৯৭৯ সালে মাধ্যমিক এবং ১৯৮১ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তরপ্রদেশ বোর্ডে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।
পরবর্তীকালে তিনি লখনৌয়ের বিখ্যাত কলভিন তালুকদার কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে ভর্তি হন দেশের অন্যতম সেরা টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠান আইআইটি কানপুরে (IIT Kanpur)। ১৯৮৫ সালে সেখান থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি.টেক (B.Tech) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।
হার্ভার্ড থেকে বিশেষ উচ্চশিক্ষা ও স্বীকৃতি
ইঞ্জিনিয়ারিং পাসের পর কেবল সিভিল সার্ভিসেই তাঁর শিক্ষা থেমে থাকেনি। আইআইটি কানপুরের সরকারি তথ্য অনুযায়ী:
তিনি ভারতের ICFAI থেকে বিজনেস ফাইন্যান্স নিয়ে পড়াশোনা করেছেন।
বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির (Harvard University) ‘হার্ভার্ড ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’ (HIID) থেকে এনভায়রনমেন্টাল ইকোনমিক্স বা পরিবেশ অর্থনীতি বিষয়ে বিশেষ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন।
সমাজ ও দেশের প্রতি অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালের নভেম্বরে আইআইটি কানপুর তাঁদের ৬৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তাঁকে সম্মানজনক ‘বিশিষ্ট প্রাক্তন শিক্ষার্থী পুরস্কার’ (Distinguished Alumnus Award)-এ ভূষিত করে।
কেরল ক্যাডারের আইএএস থেকে ২৪তম নির্বাচন কমিশনার
১৯৮৮ ব্যাচের কেরল ক্যাডারের আইএএস (IAS) আধিকারিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন জ্ঞানেশ কুমার। কেরলে কোচিন কর্পোরেশনের মিউনিসিপ্যাল কমিশনার, এর্নাকুলামের জেলাশাসক, কেরল স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের এমডি সহ একাধিক প্রশাসনিক দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে সামলেছেন তিনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে থাকাকালীন জম্মু-কাশ্মীর ও অযোধ্যা সংক্রান্ত বহু ঐতিহাসিক এবং গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে তাঁর প্রশাসনিক কাজের প্রত্যক্ষ সংযোগ ছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অবসর গ্রহণের পর মার্চ মাসে তিনি নির্বাচন কমিশনার নিযুক্ত হন এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচন পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলান। পরবর্তীতে ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারিতে দেশের ২৬তম প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে শপথ নেন তিনি।
বর্তমানে তাঁকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে উঠলেও, তাঁর সুদীর্ঘ প্রশাসনিক ও অসাধারণ শিক্ষাগত যোগ্যতার খতিয়ান সত্যিই তাক লাগানোর মতো।