মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের ভাবনা, তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের আক্রমণ

‘ভোট চুরি’র অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের নির্বাচন কমিশন এবং বিরোধী দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। সম্প্রতি একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, বিরোধী দলগুলো সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার কথা ভাবছে। যদিও কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ সৈয়দ নাসির হুসেন জানিয়েছেন যে, এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে প্রয়োজনে সব গণতান্ত্রিক উপায় ব্যবহার করা হবে।
এই বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “২০২৫ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীই প্রথম ডুপ্লিকেট এপিক কার্ডের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। আমরা পাঁচটি চিঠি দিয়েছি। জুন মাসে আপনাদের দেওয়া সময় শেষ হচ্ছে। আপনি দয়া করে আপনার রাজনৈতিক গুরুদের হাতে ছেড়ে দিন।”
মহুয়া মৈত্র আরও বলেন, “আপনারা কি বলতে চাইছেন যে, আগের নির্বাচনগুলোতে মৃত ভোটাররা তালিকায় ছিলেন? যদি তাই হয়, তাহলে প্রাক্তন সব নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং লোকসভা অবিলম্বে ভেঙে দিতে হবে।” তিনি কমিশনের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলার এবং সর্বোচ্চ আদালতকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করার অভিযোগও তোলেন।
প্রসঙ্গত, রবিবারই প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং অন্যান্য বিরোধী নেতাদের ‘ভোট চুরির’ অভিযোগকে সরাসরি বাতিল করে দেন। তিনি রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ভারতের সংবিধানের ‘অপমান’ বলে অভিহিত করেন এবং তাকে হয় হলফনামা জমা দিতে অথবা জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে বলেন।
এর জবাবে রাহুল গান্ধী পাল্টা অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর যখন একই ধরনের অভিযোগ করেন, তখন কমিশন তার কাছ থেকে কোনো হলফনামা চায় না, কিন্তু তার কাছ থেকে হলফনামা চাওয়া হচ্ছে।
সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের মতো একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়, যার জন্য সংসদের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। যদিও এই মুহূর্তে বিরোধী দলগুলোর কাছে সেই সংখ্যা নেই, তবুও কংগ্রেস নেতা ইমরান প্রতাপগড়ী বলেছেন, “আমরা দ্রুত এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।”