মাত্র দু’বছরেই অবাক কাণ্ড! শিলিগুড়ির ছোট্ট হানভিকার কীর্তিতে নাম উঠল ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে

দুর্গোৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই খুশির নতুন জোয়ার শিলিগুড়ির সাহা পরিবারে। শহরবাসীর চোখকে তাক লাগিয়ে মাত্র দু’বছর বয়সেই ‘ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে’ নাম তুলে এক অনন্য নজির গড়েছে শরৎচন্দ্রপল্লির ছোট্ট সদস্য হানভিকা সাহা। এতটুকু বয়সে যেখানে শিশুদের মুখে ঠিকমতো কথা ফোটে না, সেখানে সে অবলীলায় বলে দিতে পারে একের পর এক রাজ্যের নাম ও তার রাজধানী, নানা ধরনের ফল, ফুল, রং এবং বিভিন্ন সাধারণ জ্ঞানের প্রশ্নের উত্তর। শুধু এখানেই তার প্রতিভার পরিধি সীমাবদ্ধ নয়, বরং পবিত্র শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার ১৮টি শ্লোকের নাম, গায়ত্রী মন্ত্র ও মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্রও তার মুখস্থ। খুদের এই অবিশ্বাস্য প্রতিভার নানা মুহূর্তের ভিডিও ইতিমধ্যেই হু হু করে ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়, যা দেখে মুগ্ধ নেটপাড়া।
শিলিগুড়ি পুরনিগমের ৪০ নম্বর ওয়ার্ডের হায়দরপাড়ার শরৎচন্দ্রপল্লিতেই বসবাস সাহা পরিবারের। ছোট থেকেই খেলার ছলে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ থেকেই হানভিকার এই যাত্রার শুরু। মাত্র এক বছর বয়স থেকেই তার মা সঞ্চিতা ঘোষের উদ্যোগে ছবি এবং কথোপকথনের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিচয় ঘটতে থাকে এই একরত্তির। সেই প্রাত্যহিক শেখার অভ্যাসই আজ তাকে এনে দিয়েছে এই বিরল সাফল্য। বর্তমানে দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর নামের পাশাপাশি প্রায় ২৯টি রাজ্যের রাজধানীর নামও নিখুঁতভাবে বলতে পারে সে। স্মৃতিশক্তির এই অনন্য প্রকাশের পাশাপাশি দাবা খেলার প্রতিও তার গভীর আগ্রহ রয়েছে। পুজো মিটতেই পরিবারের এই খুদের সাফল্যে খুশির হাওয়া চারদিকে।
মেয়ের এই সাফল্যের পিছনে মা সঞ্চিতা দেবীর অবদান অপরিসীম। তিনি জানান, মেয়েকে নিয়ে তাঁর নির্দিষ্ট কোনো পেশার লক্ষ্য বা জোরাজুরি নেই; বরং হানভিকা বড় হয়ে নিজে যে পেশা বেছে নেবে, সেই পথেই তাকে এগিয়ে দিতে চান তিনি। নিজের ছোটবেলার অসম্পূর্ণ স্বপ্নের কথা স্মরণ করে তিনি জানান, আর্থিক কারণে শিক্ষিকা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হলেও মেয়ের শেখার আগ্রহকে সঙ্গী করেই তিনি আজ আনন্দ খুঁজে নেন। পাশাপাশি মেয়েকে একজন দক্ষ দাবাড়ু করে তোলার স্বপ্নও দেখেন মা। তবে হানভিকার নিজের ইচ্ছাকেই পরিবারের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, ব্যবসার ব্যস্ততার ফাঁকেও বাবা সুরজিৎ সাহা মেয়ের প্রতি বিশেষ নজর রাখেন। হানভিকার সঙ্গে মা বেশি সময় কাটালেও বাবা যখনই সুযোগ পান, নতুন কিছু শেখাতে সচেষ্ট হন। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে সুরজিৎ বাবু জানান, মেয়েকে একেবারে মোবাইল থেকে দূরে না রাখলেও স্ক্রিন টাইমের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হয়। মোবাইলে সে কী দেখছে এবং সেখান থেকে কী শিখছে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখেন বাবা-মা। বর্তমান যুগে শিশুদের হাতে প্রযুক্তি তুলে দেওয়ার পাশাপাশি সঠিক দিশা দেখানো যে জরুরি, তা বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।
হানভিকার এই সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীরাও অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। বাবা সুরজিৎ সাহার বিশেষ বার্তা, প্রতিটি অভিভাবকেরই উচিত নিজেদের সন্তানের মধ্যে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের আগ্রহকে সম্মান জানানো। প্রতিটি শিশুই নিজস্ব স্বকীয়তা ও প্রতিভা নিয়ে জন্মায়; সঠিক পরিবেশ, উপযুক্ত সুযোগ এবং একটু উৎসাহ পেলে সেই সুপ্ত প্রতিভা একদিন সফলতার আলোয় বিকশিত হয়। হানভিকার এই সাফল্যে শরৎচন্দ্রপল্লির সাহা পরিবারে এখন উৎসবের আমেজ, আর ভবিষ্যতে সে কোন উচ্চতায় পৌঁছায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় সকলে।