মাঠে লাফিয়ে উঠতেই বুকে-মাথায় বিভীষিকাময় আঘাত! হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সব শেষ, ফুটবলে শোকের ছায়া

স্প্যানিশ ফুটবলে এক অভূতপূর্ব ও মর্মান্তিক বিপর্যয়! লা লিগা হাইপারমোশনের (La Liga Hypermotion) একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে প্রতিপক্ষ দলের গোলকিপারের সঙ্গে এক ভয়ংকর সংঘর্ষের জেরে অকালেই প্রাণ হারাতে হলো সিডি টেনেরিফের ৩০ বছর বয়সী উদীয়মান স্ট্রাইকার জেসুস দে মিগুয়েল (Jesus De Miguel)। প্রথমে তাঁর শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল বলে জানানো হলেও, শেষরক্ষা হয়নি। মারাত্মক স্নায়বিক জটিলতা এবং কার্ডিওরেসপিরেটরি অ্যারেস্টের কারণে পরপারে পাড়ি দিয়েছেন এই লড়াকু ফুটবলার। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে গোটা স্প্যানিশ ফুটবল বিশ্বে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মাঠে ঠিক কী ঘটেছিল? মঙ্গলবার এস্তাদিও হেলিওডোরো রদ্রিগেজ লোপেজ স্টেডিয়ামে সিডি টেনেরিফ এবং এফসি অ্যান্ডোরার মধ্যে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ম্যাচটি চলছিল। খেলার স্কোর তখন ২-২। ঠিক সেই মুহূর্তেই বল নিয়ে প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের দিকে বিদ্যুতের গতিতে দৌড়াচ্ছিলেন জেসুস দে মিগুয়েল। বিপদ বুঝতে পেরে এফসি অ্যান্ডোরার গোলকিপার জেসুস ওউনো পেনাল্টি এরিয়া ছেড়ে অনেকটা এগিয়ে আসেন।

স্টপেজ টাইমের সপ্তম মিনিটে হাফওয়ে লাইনের কাছাকাছি এসে বল ক্লিয়ার করতে সজোরে লাফিয়ে ওঠেন গোলকিপার ওউনো। কিন্তু তাঁর সেই মারাত্মক লাফ ও হাঁটু সরাসরি সজোরে আঘাত করে দে মিগুয়েলের বুক ও মাথায়। মুহূর্তের মধ্যে মাঠে নিথর হয়ে লুটিয়ে পড়েন এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। পরিস্থিতি কতটা ভয়ঙ্কর, তা বুঝতে পেরে দুই দলের খেলোয়াড়রাই মাঠে ছুটে আসেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। রেফারি তৎক্ষণাৎ গোলকিপার ওউনোকে লাল কার্ড দেখান এবং ম্যাচটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।

আইসিইউ-তে শেষ লড়াই ও মর্মান্তিক পরিণতি: মাঠ থেকে দ্রুত অচেতন অবস্থাতায় জেসুস দে মিগুয়েলকে নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে ক্যান্ডেলেরিয়া ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (ICU) ভর্তি করা হয়। প্রথমে জানানো হয়েছিল যে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে সিডি টেনেরিফ ক্লাব এক অফিসিয়াল বিবৃতিতে অত্যন্ত ভারী হৃদয়ে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।

ক্লাবের তরফে জানানো হয়, ম্যাচের সময় বুকে ও মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগার ফলেই তাঁর মারাত্মক কার্ডিওরেসপিরেটরি অ্যারেস্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত স্থানীয় সময় সকাল আটটায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিবৃতিতে ক্লাব আরও লিখেছে, “গলায় দলা পাকানো কষ্ট আর বুক ফাটা যন্ত্রণা নিয়ে আমরা জেসুস দে মিগুয়েল আলামেদার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর জানাচ্ছি। সান্ত্বনা দেওয়ার মতো কোনো ভাষা আমাদের নেই।”

সংগ্রাম থেকে সাফল্যের শিখরে ওঠার গল্প: ১৯৯৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া জেসুস দে মিগুয়েল স্প্যানিশ ফুটবলে এক অনুপ্রেরণার নাম ছিলেন। লেগানেস বি, ফুয়েনলাব্রাদা, ইউনিয়ন আদারভে থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্লাবে ঘুরে নিজের অসাধারণ প্রতিভা ও জেদের জোরে তিনি প্রফেশনাল ফুটবলে নিজের জায়গা পাকা করেছিলেন। ২০২৩-২৪ মরশুমে ১৬টি গোল করে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতা হন এবং কাস্তেলনকে প্রমোশন পেতে সাহায্য করেছিলেন। ২০২৪ সালের অগাস্টে সিডি টেনেরিফের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি সই করার পর ১১টি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলটিকে লা লিগা হাইপারমোশনে তুলতে প্রধান ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।

মাঠের লড়াইয়ে জীবন জেতার সেই মানুষটাই আজ চিরতরে হারিয়ে গেলেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণ ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে গভীর ক্ষত তৈরি করে গেল।