মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সবচেয়ে বড় মোড়! হঠাৎ যুদ্ধ শেষের বড় বার্তা দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করা ইরান-আমেরিকা সংঘাত কি এবার সত্যিই অবসানের পথে? ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক বার্তায় এই জল্পনা চরম আকার ধারণ করেছে। কানসাস সিটির বিখ্যাত রেডিও স্টেশন KCMO-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকার চলাকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন যে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হতে চলেছে।
সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “It’s going to get wrapped up soon”— অর্থাৎ এই লড়াইয়ের অধ্যায় খুব দ্রুত গুটানো হবে। তবে কীভাবে বা কোন শর্তে সংঘাত থামবে, তার স্পষ্ট কোনো রূপরেখা না দিলেও ইরানের পরমাণু অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো রকম আপস করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের স্পষ্ট দাবি, ইরান যাতে কোনো অবস্থাতেই পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা ধারণ করতে না পারে, তার একশত শতাংশ সুনিশ্চিত গ্যারান্টি ওয়াশিংটনের প্রয়োজন।
ভোটের মুখে মাস্টারস্ট্রোক নাকি সামরিক কৌশল? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক মুখে মার্কিন ভোটারদের আশ্বস্ত করতেই ট্রাম্পের এই কৌশলগত অবস্থান। এর আগে মার্কিন প্রশাসনের তরফ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে ৩ নভেম্বরের আগে নতুন করে ইরানে কোনো বড়সড় সামরিক অভিযান চালানো হবে না। সেই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের এই মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু করেছে।
যুদ্ধের ময়দানে আসল ছবিটা কী? প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এখনও বেশ জটিল। বার্তা সংস্থা এপি (AP)-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মিত্র দেশকে নির্বাচনের পর পরিস্থিতি জটিল হলে সম্ভাব্য পাল্টা আক্রমণের মুখোমুখি হওয়ার জন্য তৈরি থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করা হয়েছে যে তারা আলোচনার কূটনৈতিক দরজা খোলা রাখতে ইচ্ছুক হলেও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো ঢিলেমি দেবে না। ফলে ট্রাম্পের আশ্বাসবাণীর আড়ালেও যুদ্ধের শঙ্কা সম্পূর্ণরূপে কেটে যাচ্ছে না বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা।