ভোররাতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ! বাজিভর্তি দোকানে ভয়াবহ আগুন, পুড়ে ছাই ৫টি দোকান

ভোররাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে পরপর বাজির শব্দে ঘুম উড়েছিল বাসিন্দাদের। ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে তাঁরা দেখতে পান, এলাকার পাঁচটি দোকানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। আর এই সর্বগ্রাসী আগুনের উৎস ছিল পাশের একটি দোকান। অভিযোগ, সেই দোকানে বেআইনিভাবে নিষিদ্ধ আতশবাজি মজুত করা ছিল, যেখান থেকেই মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের দোকানগুলোতে।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে আলিপুরদুয়ারের মাদারিহাটের টোটোপাড়া মোড় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঘটনার পরপরই দমকল বিভাগে খবর দেওয়া হলেও কাছের বীরপাড়া ফায়ার স্টেশন থেকে কোনো সাহায্য মেলেনি। বরং দূরে থাকা ফালাকাটা এবং তার প্রায় এক ঘণ্টা পর হ্যামিলটনগঞ্জ থেকে দমকলের ইঞ্জিন এসে পৌঁছায়। ততক্ষণে ভস্মীভূত হয়ে যায় একের পর এক দোকান।

চোখের সামনে পুড়ে গেল ফাস্ট ফুডের দোকান

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে দোকানে প্রথম আগুন লাগে সেখানে লঙ্কা বোমা, চকোলেট বোমা এবং তুবড়ির মতো বিভিন্ন নিষিদ্ধ বাজি মজুত করা ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ঋত্বিক সাহা আক্ষেপের সুরে জানান, প্রথমে তাঁর নিজের দোকানে আগুন না লাগলেও চোখের পলকে তা তাঁর ফাস্ট ফুডের দোকানসহ আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

বারবার ফোন করা সত্ত্বেও আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিট পর দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে অভিযোগ করেন ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা। সবচেয়ে কাছে থাকা বীরপাড়া ফায়ার স্টেশনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে স্থানীয় মহল।

ইতিমধ্যেই কীভাবে ওই দোকানে আগুন লাগল এবং সেখানে কীভাবে নিষিদ্ধ বাজি মজুত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।