ভিনরাজ্যে আলু পাঠালেই মিলবে কুইন্টাল পিছু সরকারি বোনাস! আলুচাষিদের ভাগ্য বদলাতে শুভেন্দু অধিকারীর মাস্টারস্ট্রোক

খোলাবাজারে আলুর দাম তলানিতে ঠেকলেও এবার আর কপালে চিন্তার ভাজ ফেলতে হবে না আলুচাষিদের। খোলাবাজারের দর যাই হোক না কেন, কৃষকদের আর্থিক লোকসান থেকে বাঁচাতে এবার ঐতিহাসিক মেগা প্যাকেজ ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। হুগলির পুরশুড়ায় আয়োজিত ‘কৃষক সম্মান নিধি’ প্রকল্পের গ্র্যান্ড মঞ্চ থেকে আলুচাষিদের স্বার্থে একের পর এক বড় আর্থিক সুরক্ষার কথা জানান তিনি।

বিগত সরকারের আমলে বর্ডারে আলুর গাড়ি আটকে রাখা এবং আলু পচে নষ্ট হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দেন—নতুন রাজ্য সরকারের জমানায় আলুর বাজারে আর কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকবে না।

আলুচাষিদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর মেগা ঘোষণাসমূহ:

  • বাজারদর পড়ে গেলেও মিলবে ‘ফ্রি বন্ড’ মূল্য: আলুর বাজারদর যতই কমুক না কেন, চাষিদের জন্য কুইন্টাল পিছু ১,১২০ টাকা ‘ফ্রি বন্ড’ মান নিশ্চিত করা হয়েছে। বাজারে আলুর দাম নির্ধারিত এই স্তরের নিচে নেমে গেলে, বাকি পার্থক্য বা ক্ষতির টাকা সরকারি ‘ভর্তুকি’ হিসেবে সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে দেবে রাজ্য সরকার।

  • রপ্তানিতে মেলবে কুইন্টাল পিছু ৫০ টাকা সরকারি সাহায্য: ভিনরাজ্যে গাড়ি কিংবা রেলে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা থাকছে না। সীমান্ত বা বর্ডারে আলুর গাড়ি আটকানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি পরিবহনে উৎসাহিত করতে কুইন্টাল পিছু ৫০ টাকা করে ট্রান্সপোর্ট সাবসিডি বা সরকারি ভর্তুকি দেওয়া হবে।

  • সম্পূর্ণ বিনামূল্যের ‘ফসল বিমা’ ও হিমঘরের বকেয়া নিষ্পত্তি: আলুকে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা’-র অধীনে নিয়ে আসা হচ্ছে এবং বিমার জন্য কৃষকদের প্রদেয় সম্পূর্ণ অংশ মকুব করে তা রাজ্য সরকার বহন করবে। কোল্ড স্টোরেজে জমিয়ে রাখা ২৭ লক্ষ টন আলু ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দ্রুত খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (প্রয়োজনে যা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়বে)।

  • ১৫০ কোটির সোলার হিমঘর ও কোল্ড স্টোরেজ সাহায্য: রাজ্যজুড়ে ৫০টি ‘কৃষক মান্ডি’-তে সৌরশক্তি চালিত আধুনিক হিমঘর তৈরির জন্য ১৫০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ কোল্ড স্টোরেজগুলিকেও সরকারি বিপণন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হচ্ছে।

শুভেন্দু অধিকারীর এই মেগা ঘোষণার পর হুগলি, বর্ধমান, মেদিনীপুর সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের লাখ লাখ আলুচাষির মুখে ফুটেছে আশার হাসি। সরকারের এই পদক্ষেপে এবার চাষিরা নিজেদের ফসলের ন্যায্য দাম পাবেন বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

Aditi Banik
  • Aditi Banik