‘বুঝতেই পারিনি ওটা যৌন হেনস্থা ছিল!’ পরিবারকে লুকিয়ে রাখা সেই কালো দিনটির কথা বলতে গিয়ে ক্যামেরার সামনেই ভেঙে পড়লেন অভিনেত্রী!

রূপোলি পর্দার দুনিয়া বাইরে থেকে যতটা চকচকে ও আকর্ষণীয় মনে হয়, অনেক ক্ষেত্রেই তার অন্তরালে লুকিয়ে থাকে চরম অন্ধকার ও নির্মম কিছু সত্যি। জনপ্রিয় হিন্দি ধারাবাহিক ‘দেবো কে দেব মহাদেব’-এ দেবী পার্বতীর অনবদ্য চরিত্রে অভিনয় করে ঘরে ঘরে পরিচিতি পাওয়া এবং তেলুগু ছবির জগতের জনপ্রিয় মুখ সোনারিকা ভাদোরিয়া (Sonarika Bhadoria) সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর জীবনের এমন এক চরম মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনেছেন, যা শুনে নেটপাড়ার চোখে জল চলে এসেছে। মাত্র ১০-১১ বছর বয়সে তিনি যে বর্বর যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন, তা আজ সমাজের সামনে তুলে ধরেছেন অভিনেত্রী।

রাখি পূর্ণিমার আনন্দ নিমেষেই বদলে গিয়েছিল দুঃস্বপ্নে

সাক্ষাৎকারে নিজের শৈশবের সেই ভয়ংকর স্মৃতির কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সোনারিকা। তিনি জানান, সেই দিনটি ছিল রাখি পূর্ণিমা। তিনি তাঁর এক পাতানো দাদাকে রাখি পরাতে গিয়েছিলেন। সেই অনুষ্ঠান সেরে পরিবারের সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য তাঁরা একটি নামী রেস্তোরাঁয় যান।

আর ঠিক সেই রেস্তোরাঁতেই ঘটে যায় সেই অনভিপ্রেত ঘটনা। অভিনেত্রী জানান, রেস্তোরাঁর এক ম্যানেজার তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। এক দরজা থেকে অন্য দরজায় যাওয়ার সময় রেস্তোরাঁর ভেতরকার একটি অন্ধকার মতো করিডরে ম্যানেজার তাঁর ঠিক পাশেই হাঁটছিলেন। আর সেই সুযোগেই হঠাৎ অত্যন্ত আপত্তিকর ও কুরুচিকরভাবে তাঁর গায়ে হাত দেন ওই ব্যক্তি। অভিনেত্রীর কথায়, “ওঁরা ম্যানেজার আমার স্তনে হাত দিয়ে চেপে ধরেন।”

ভয়ে চুপ করে গিয়েছিলেন অবুঝ শিশুটি, জানলেন বহু বছর পর

এই আকস্মিক ও বিকৃত আক্রমণে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছিলেন ছোট্ট সোনারিকা। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি এতটাই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন যে তিনি সম্পূর্ণ চুপ করে যান। তৎক্ষণাৎ প্রতিবাদ করা তো দূরের কথা, ঘটনার তীব্রতা বুঝতে না পেরে তিনি পরিবারের কাউকেও কিছু বলতে পারেননি।

বহু বছর পর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন তিনি বুঝতে পারেন যে সেদিন তিনি আসলে একটি জঘন্য যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন, তখন তিনি পুরো বিষয়টি তাঁর মাকে জানান। মেয়ের মুখে এই লোমহর্ষক ঘটনা শুনে স্বাভাবিকভাবেই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর মা। মা যখন তাঁকে প্রশ্ন করেন কেন তিনি এত দিন বিষয়টি লুকিয়েছিলেন, তখন সোনারিকা উত্তর দিয়েছিলেন যে, সেই বয়সে ওই ঘটনার গভীরতা বা অর্থ বোঝার মতো মানসিক বয়স তাঁর ছিল না। পরবর্তীকালে তাঁর বাবাও এই নৃশংসতার কথা জানতে পেরে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন।

পর্দার ‘পার্বতী’ হিসেবে পরিচিত এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর শৈশবের এই বেদনাদায়ক ও যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল, যা নারী সুরক্ষা ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে ফের এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।

Aditi Banik
  • Aditi Banik