বিশ্বজুড়ে ধসের জেরে বড় বিপর্যয়, উলটো পথে হেঁটে সেনসেক্সে ১৭১৮ পয়েন্টের রেকর্ড তুফান!

বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সংস্থার শেয়ারে বড়সড় ধস নামলেও তার বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়ল না ভারতীয় বাজারে। উলটো স্রোতে ভেসে ধনতেরাস ও উৎসবের আবহে শুক্রবার শেয়ার বাজারে দেখা গেল এক ঐতিহাসিক ও অভাবনীয় ছবি। আন্তর্জাতিক বাজারের বড়সড় অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে রক্তক্ষরণের মধ্যেও টানা সাত দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী রইল দেশের দুই প্রধান সূচক—সেনসেক্স ও নিফটি। শুধু তাই নয়, ধনতেরাসের দিনই সোনা ও রুপোর দাম কিছুটা কমায় সাধারণ ক্রেতাদের মুখেও চওড়া হাসি ফুটল।
বিশ্ববাজার যখন লাল, তখন সেনসেক্সে ১৭১৮ পয়েন্টের ধামাকা
শুক্রবার সপ্তাহের শেষ ট্রেডিং সেশনের শেষে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স এক ধাক্কায় ১৭১৮.০১ পয়েন্ট বা ২.১৭ শতাংশ বেড়ে গিয়ে গিয়ে পৌঁছয় ৮১,০২৮.০২ পয়েন্টে। এমনকি দিনের সর্বোচ্চ স্তরেই গিয়ে থামে ৩০টি সংস্থার শেয়ার নিয়ে তৈরি এই সূচকটি।
একই ছবি দেখা গেছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জেও (NSE)। ৫০টি সংস্থার শেয়ার নিয়ে গঠিত নিফটি সূচক ৪৯৩.৭৫ পয়েন্ট বা ২.০১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে গিয়ে দাঁড়ায় ২৫,০৩০.৩৫ পয়েন্টে। টানা সাত দিন ধরে বাজারের এই লাগাতার ঊর্ধ্বগতি দেশের লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কামব্যাক ও তেলের দাম পতন
ভারতের শেয়ার বাজারে এই জোরাল উত্থানের পেছনে প্রধানত দুটি বড় অনুঘটক কাজ করেছে:
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় বাজার থেকে মূলধন তুলে নেওয়ার পর বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ফের দেশের বাজারে ব্যাপকহারে শেয়ার কিনতে শুরু করেছেন। এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুযায়ী, বিগত এক দিনেই প্রায় ১৪,৯৭৪ কোটি টাকার বেশি শেয়ার কিনেছেন তাঁরা।
অপরিশোধিত তেলের দাম কমা: আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত তেলের দাম কম থাকায় তা দেশের মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এবং সার্বিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
রিলিগেয়ার ব্রোকিংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অজিত মিশ্রের মতে, বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বাড়ন্ত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে যেখানে আমেরিকা ও এশিয়ার শেয়ার বাজারে ব্যাপক পতন দেখা গেছে, সেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ধারাবাহিক কেনাকাটাই ভারতীয় বাজারকে শক্তিশালী রক্ষা কবচ জুগিয়েছে।
ধনতেরাসের বাজারে স্বস্তি: কমল সোনা ও রুপোর দাম
শেয়ার বাজারের রমরমার পাশাপাশি ধনতেরাসের ঠিক আগে ধাতু বাজারেও সাধারণ ক্রেতাদের জন্য রয়েছে বিরাট স্বস্তি। শুক্রবার মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) ডিসেম্বরের সোনার ফিউচার্স কন্টাক্ট প্রতি ১০ গ্রামে ২১৭৮ টাকা বা ১.৫১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৯১৭ টাকায়। দুর্বল চাহিদার কারণেই এই দরপতন ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজধানী দিল্লিতে ২২ ক্যারেট সোনার দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ৫৪৩ টাকায় (আগের দিন যা ছিল ১ লক্ষ ৩২ হাজার ৩৬৭ টাকা)। মুম্বই, কলকাতা, চেন্নাই ও হায়দরাবাদের বাজারেও হলুদ ধাতুর দাম বেশ খানিকটা কমেছে, যার জেরে সোনা ও রুপো কেনার আনন্দ দ্বিগুণ হয়েছে উৎসবপ্রেমী আমজনতার।