আরজি কর সৎকারকাণ্ডে বেঙ্গালুরু থেকে বড় গ্রেফতারি! পুলিশের জালে পানিহাটির প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে!

আলোড়ন ফেলে দেওয়া আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন এবং পরবর্তীতে তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্তে ফের এক বিরাট অগ্রগতি ঘটিয়েছে পুলিশ। ভিনরাজ্য থেকে পলাতক অভিযুক্ত পানিহাটি পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান সোমনাথ দে-কে কর্ণাটকের রাজধানী বেঙ্গালুরু থেকে গ্রেফতার করেছে ব্যারাকপুর কমিশনারেটের বিশেষ পুলিশ দল। এর আগে ওড়িশার একাধিক জায়গা এবং হায়দরাবাদে তাঁর সন্ধানে তল্লাশি চালানো হলেও অবশেষে বেঙ্গালুরু থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়। আজ বেঙ্গালুরুর সিটি সিভিল কোর্টে সোমনাথ দে-কে পেশ করে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। আদালতের অনুমোদন মিললে আজই তাঁকে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে রওনা দেবে পুলিশ এবং আগামীকাল সোমনাথ দে-কে ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, এই একই মামলায় এর আগে ওড়িশার বালেশ্বর থেকে নির্মল ঘোষকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সোমনাথের এই گرفتারি আরজি করের সৎকারকাণ্ডের তদন্তে এক নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিল।

এদিকে, অভয়াকাণ্ডের দুই বছর পূর্তিতে অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে কড়া বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর থেকেই এই আলোচিত মামলায় তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। ঘটনার দিন অর্থাৎ ২০২৪ সালের ৮ অগাস্ট রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা এক নার্সের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। প্রায় দু’বছর পর উদ্ধার করা সেই ফোনটি ইতিমধ্যেই ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে। সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, ওই নার্সের ফোনের কল রেকর্ড, কোন কোন নম্বরে যোগাযোগ করা হয়েছিল, কার কার সঙ্গে কথা হয়েছিল এবং কথোপকথনের ব্যাপ্তি খতিয়ে দেখে ঘটনার একাধিক গোপন রহস্য ভেদ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন তৈরি হয়েছে যে, কার নির্দেশে সেদিন রাতে নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের পরিবারকে ফোন করা হয়েছিল? ওই নার্স কি কোনো উচ্চপদস্থ প্রভাবশালী আধিকারিকের নির্দিষ্ট নির্দেশেই পরিবারকে ফোন করেছিলেন, নাকি সমস্ত ঘটনাটি তাঁর নিজের একক উদ্যোগে হয়েছিল? পরিবারকে ঠিক কী বার্তা দেওয়া হয়েছিল এবং ফোন করার আগে বা পরে তিনি আর কার কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন—এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন সচেষ্ট সিবিআই আধিকারিকেরা। অন্যদিকে, কলকাতার আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গেছে যে নিম্নচাপের জোড়াফলার জেরে আগামী দিনগুলিতেও বৃষ্টিতে ভিজতে পারে শহর ও শহরতলি। সবমিলিয়ে, আরজি কর কাণ্ডের রাজনৈতিক ও আইনি জল কতদূর গড়ায়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সমগ্র রাজ্যবাসী।