বাজার থেকে আর সবজি কেনার প্রয়োজনই পড়ে না! বাড়ির পাশের ছোট্ট জমিতেই কীভাবে চমক দেখালেন এই নেতা?

ধান কাটার পর খেত বা বাড়ির আশপাশের ফাঁকা জমি সাধারণত অব্যবহৃতই পড়ে থাকে। কিন্তু ছত্তিশগড়ের বিলাসপুর জেলার মাস্তুরির জেলা পঞ্চায়েত সদস্য দামোদর কান্ত সেই ফাঁকা জমিতেই ঘটিয়েছেন এক দারুণ পরিবর্তন। গত প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি এই ফাঁকা জমিকে একটি সুন্দর ‘কিচেন গার্ডেন’ বা গৃহস্থের শাকসবজির বাগানে পরিণত করেছেন। যার ফলে বাজারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে পরিবারের জন্য তাজা সবজি উৎপাদন করে আসছেন তিনি।
কীভাবে শুরু এই উদ্যোগ?
লোকালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে দামোদর কান্ত জানান, ধান তোলার পর খেত ও বাড়ির আশপাশে অনেকটা জায়গা ফাঁকা পড়ে থাকে। এই অলস জমিকে কাজে লাগিয়ে তিনি মরশুমি শাকসবজি চাষের সিদ্ধান্ত নেন। গত এক দশক ধরে তিনি নিজের পরিবারের দৈনন্দিন খাবারের তাজা সবজির জোগান এভাবেই নিশ্চিত করে চলেছেন।
কী ধরনের সবজি চাষ করা হয়?
তাঁর এই বাগানে মরশুম অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের টাটকা শাকসবজি ফলানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে:
টমেটো, করলা ও লাউ
মখনা, শিম ও মুলো
তবরা শাকসহ বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি
এছাড়া শীত বা গ্রীস্মের মরশুম অনুযায়ী ধনেপাতা ও মেথির মতো শাকও নিয়মিত চাষ করা হয়।
সম্পূর্ণ রাসায়নিক মুক্ত জৈব চাষ
সবজি চাষে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার সম্পূর্ণ বর্জন করেছেন দামোদর কান্ত। এর পরিবর্তে তিনি বাড়িতে তৈরি গোবর সার এবং গবাদি পশুর বর্জ্য থেকে তৈরি পৈরা সার ব্যবহার করেন। পৈরা পচে গিয়ে যে উচ্চমানের জৈব সার তৈরি হয়, তা ফলমূল ও শাকসবজির পুষ্টি বৃদ্ধি করতে দারুণভাবে সাহায্য করে।
পরিশ্রম ও সচেতনতা
দামোদর কান্তের মতে, বাড়ির ছোট্ট জায়গায় বাগান তৈরি করতে খুব বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন শুধু সঠিক সময়ে বীজ বা চারা রোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার। গাছের নিয়মিত জল দেওয়া এবং সঠিক সার প্রয়োগ করলেই চমৎকার ফলন পাওয়া সম্ভব। শুধু নিজের পরিবার নয়, তাঁর এই সফল কিচেন গার্ডেন দেখে আশেপাশের মানুষও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। বীজ বপন থেকে শুরু করে সার দেওয়া—পুরো প্রক্রিয়াটি তিনি আগ্রহীদের শিখিয়ে দেন। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় নিজের জন্মদিনে নিয়মিত গাছ লাগানোর বিশেষ উদ্যোগও নেন এই ব্যতিক্রমী জনপ্রতিনিধি।