বাইকে ওঠার সময় মহিলারা কেন দুই পা একদিকে রাখেন? জানলে চোখ কপালে উঠবে!

ভারতে মোটরসাইকেল বা স্কুটারে যাতায়াতের সময় মহিলাদের দুই পা একদিকে রেখে বসার দৃশ্য অত্যন্ত পরিচিত। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান করে চলাচলের ক্ষেত্রে এই ভঙ্গিমা বহুপ্রচলিত হলেও, এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সামাজিক বিশ্বাস। বাইরে থেকে এটিকে নিছক একটি প্রথা মনে হলেও, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে গুরুতর নিরাপত্তার প্রশ্ন এবং ঔপনিবেশিক প্রভাবের ইতিহাস।
সাধারণত ভারতীয় সমাজে শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ কিংবা লেহেঙ্গার মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে বাইকের দুই দিকে পা ঝুলিয়ে বসা অত্যন্ত অসুবিধাজনক ও অস্বস্তিকর। শুধু তাই নয়, পোশাকের আঁচল বা অংশবিশেষ চলন্ত গাড়ির চাকায় বা চেইনে জড়িয়ে যাওয়ার মারাত্মক আশঙ্কা থাকে। এর পাশাপাশি, পারিবারিক ও সামাজিক রক্ষণশীলতার কারণে প্রবীণদের সামনে দুই দিকে পা দিয়ে বসা অনেক সময় ‘অনুচিত’ বা ‘অশালীন’ বলে মনে করা হয়। তবে চিকিৎসাক ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইকে দুই পা একদিকে রেখে বসা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং মারাত্মক আঘাতের কারণ হতে পারে।
পাকিস্তানের প্রথম নারী মোটরসাইকেল অভিযাত্রী জেনিথ ইরফান এই বিষয়ে একটি তথ্যবহুল ভিডিওতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মহিলাদের এই ভঙ্গিতে বসার রীতি আদতে দেশীয় সংস্কৃতির অংশ নয়। এর সূত্রপাত হয়েছিল প্রায় ১৪ বা ১৫ শতকে ইউরোপে। সেই সময়ে বোহেমিয়ার রাজকুমারী অ্যান ঘোড়ায় চড়ার সময় দুই পা একদিকে রেখে বসার শৈলী জনপ্রিয় করেছিলেন, যা পরবর্তীতে ইউরোপের বিভিন্ন রাজপরিবারে ছড়িয়ে পড়ে। তৎকালীন সময়ে মহিলাদের পুরুষদের মতো ঘোড়ার দুই দিকে পা ঝুলিয়ে বসা অনৈতিক ও অনুচিত বলে মনে করা হতো।
জেনিথ আরও উল্লেখ করেছেন যে, ভারতীয় সংস্কৃতির ইতিহাসে নারীদের বীরত্বের বহু নিদর্শন রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ভারতের বীরঙ্গনা রানি লক্ষ্মীবাঈ ঘোড়ার দুই দিকে পা দিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রে লড়াই করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার সাধারণ মানুষ ইউরোপীয় ও ব্রিটিশ সংস্কৃতির বিভিন্ন রীতিনীতি অন্ধভাবে অনুকরণ করতে শুরু করে। পরবর্তীকালে যখন মোটরসাইকেলের যুগ এল, তখন সেই প্রাচীন ঔপনিবেশিক ও রক্ষণশীল ধ্যানধারণার অনুকরণেই মহিলারা বাইকে দুই পা একদিকে রেখে বসার অভ্যাস শুরু করেন, যা আজও সমাজের একটি বড় অংশে প্রচলিত রয়েছে।