বসুন্ধরা পুলিশ ফাঁড়িতে তীব্র বিস্ফোরণ, আহত ডেলিভারি বয়! ঘটনার নেপথ্যে কি তবে নাশকতার ছক?

উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি পুলিশ ফাঁড়ির অভ্যন্তরে ঘটা রহস্যজনক বিস্ফোরণ ঘিরে গোটা রাজ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে বসুন্ধরা পুলিশ ফাঁড়িতে হঠাৎই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, যার তীব্রতায় কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় এক ডেলিভারি কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের অভিঘাত এতটাই জোরালো ছিল যে, ফাঁড়ির একটি কাচের জানলা সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার হয়ে যায় এবং শক্তপোক্ত দেওয়ালেও বড়সড় ফাটল দেখা দেয়। ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
পুলিশ সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক খবরে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের ঠিক সময়ে সংশ্লিষ্ট ফাঁড়িতে কর্তব্যরত ছিলেন এক সাব-ইনস্পেক্টর। ঠিক সেই মুহূর্তেই একটি পার্সেল বা অর্ডার পৌঁছে দিতে সেখানে আসেন এক অনলাইন ডেলিভারি কর্মী। আর তখনই আচমকা ওই বিস্ফোরণ ঘটে। এর জেরে চারদিকে ছিটকে আসা কাচের টুকরোয় ক্ষতবিক্ষত হন ওই ডেলিভারি কর্মী। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং চিরুনি তল্লাশি শুরু করে। ঘটনার তদন্তে দ্রুত যোগ দেয় বিশেষ ফরেন্সিক দল। এরপর শনিবার সকালেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-এর শীর্ষ আধিকারিকরা। ঠিক কী ধরনের বিস্ফোরক এই নাশকতার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং এর নেপথ্যে কোনো দূরভিসন্ধি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহ করছেন।
এদিকে, এই বিস্ফোরণের পরেই চাঞ্চল্যকর মোড় নেয় গোটা ঘটনা। ‘তেহরিক-উল-মুজাহিদিন হিন্দুস্তান’ নামক একটি কট্টরপন্থী জঙ্গি সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে খবর সামনে এসেছে। ‘Ghazi 2’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডেল বা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি পুলিশ ফাঁড়ি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে এই বিস্ফোরণকে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে জঙ্গি সংগঠনের এই দায় স্বীকারের দাবি এখনও পর্যন্ত স্বাধীনভাবে কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি। পুলিশ কিংবা স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে এটিকে সরাসরি জঙ্গি হামলা বলেও এখনও নিশ্চিত করা হয়নি। ইন্দিরাপুরমের সহকারী পুলিশ কমিশনার সূর্যবলী মৌর্য জানিয়েছেন, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নাকি কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের জেরে ঘটে যাওয়া পরিকল্পিত নাশকতা, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ফরেন্সিক পরীক্ষার চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে আসার পরেই বিস্ফোরণের প্রকৃত প্রকৃতি এবং নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।