বইপ্রেমীদের সুনামি কলকাতায়! সব হিসেব উল্টে দিয়ে কত কোটির ব্যবসা করল বইমেলা? জানলে চমকে যাবেন

জাঁকজমকপূর্ণভাবে পর্দা নামল ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলার। তবে শুধু মেলা শেষ হওয়াই নয়, বিদায়বেলায় এক অভাবনীয় সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরল পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড। বই বিক্রির সমস্ত পুরনো রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে এ বছর ব্যবসার অঙ্ক পৌঁছেছে ২৬.৪৫ কোটি টাকায়। গত বছরের তুলনায় বই বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। দর্শকসংখ্যার নিরিখেও চলতি বছর সৃষ্টি হয়েছে নতুন নজির।
মেলার সমাপ্তি অনুষ্ঠানে গিল্ডের সভাপতি সুধাংশু শেখর দে জানান, নতুন প্রজন্মের বিপুল উপস্থিতিই প্রমাণ করে দিয়েছে যে ডিজিটাল যুগেও বইয়ের প্রতি মানুষের টান বিন্দুমাত্র কমেনি। ১৯৭৬ সালে মাত্র ৩২ জন প্রকাশককে নিয়ে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ ৫০ বছরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে সেই সংখ্যা ১১০০ ছাড়িয়েছে।
আগামী বছর আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা পা দিতে চলেছে তার সুবর্ণ জয়ন্তী অর্থাৎ ৫০তম বর্ষে। এই বিশেষ বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এখন থেকেই বড়সড় পরিকল্পনা শুরু করেছে মেলা কমিটি। সভাপতি সুধাংশু শেখরবাবু আবেদন জানিয়েছেন, বিগত ৫০ বছরের মেলার কোনো দুষ্প্রাপ্য ছবি বা তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে থাকলে তাঁরা যেন তা গিল্ডকে দিয়ে সহযোগিতা করেন। আগামী বছরের ‘বইতীর্থ’ সাজানো হবে সেইসব স্মৃতি দিয়েই।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আবহের মধ্যেও এ বছর বইমেলায় অংশ নিয়েছিল ব্রিটেন, ইউক্রেন ও চিনের মতো দেশ। গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায় আশা প্রকাশ করেছেন, আগামী বছর অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা আরও বাড়বে। প্রথা মেনে ঘণ্টা বাজিয়ে এ বছরের মতো মেলার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আর সেই সঙ্গেই শুরু হয়ে গেল বাঙালির প্রিয় ‘বই উৎসব’-এর পঞ্চাশতম বর্ষের কাউন্টডাউন।