ফিরে আসছে সেই সোনালী দিন! সেন-র‍্যালের জঙ্গল ঘেরা জমিতেই কি ফের তৈরি হবে বিখ্যাত ‘বলাকা-হাম্বার’ সাইকেল?

বাঙালির নস্ট্যালজিয়া এবং ঐতিহ্যের সঙ্গে ওপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা ‘বলাকা’ বা ‘হাম্বার’ সাইকেলের নাম শোনেননি, এমন কফিপ্রেমী বা প্রবীণ মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। একসময় বাঙালি শিল্পপতি সুধীর সেন র‍্যালে কোম্পানির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ১৯৫১ সালে আসানসোলের কন্যাপুর এলাকায় গড়ে তুলেছিলেন এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ‘সেন-র‍্যালে’ সাইকেল কারখানা। প্রায় সাড়ে ৬০০ একর জমির উপর তৈরি এই কারখানায় সাড়ে চার হাজারেরও বেশি শ্রমিক কাজ করতেন। বিদেশেও রফতানি হতো এখানাকার তৈরি সাইকেল। কিন্তু কালের নিয়মে ও নানা রাজনৈতিক তথা প্রশাসনিক জটিলতায় সেই কারখানা আজ কেবলই অতীত। কারখানা বন্ধ হওয়ার পর থেকে সেখানে জমেছে জঙ্গল, চুরি গেছে মূল্যবান যন্ত্রাংশও।

তবে সম্প্রতি রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘সারথি’ প্রকল্পের আওতায় সাইকেল বিতরণের সময় রাজ্যে নতুন সাইকেল কারখানা গড়ার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘোষণার পরই নতুন করে আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন আসানসোলের সেন-র‍্যালে এলাকার বাসিন্দারা ও প্রবীণ প্রাক্তন কর্মীরা। তাঁদের জোরালো দাবি, নতুন করে সাইকেল কারখানা গড়তে হলে এর চেয়ে উপযুক্ত জায়গা আর দ্বিতীয়টি হতে পারে না।

কী বলছেন এলাকাবাসী ও প্রাক্তন কর্মীরা?

কারখানার পুরনো দিনগুলির কথা স্মরণ করে এক প্রবীণ কর্মী দিলীপ মুখোপাধ্যায় জানান, তাঁদের কাছে আজও সেন-র‍্যালের সাইকেল অত্যন্ত যত্নে ও সযত্নে রাখা রয়েছে। একসময় বাঙালিদের বিয়েতে কন্যাপক্ষের কাছে যৌতুক হিসেবে এই সাইকেলের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। বর্তমানে কারখানার সেই বিশাল জমি জঙ্গল ও আগাছায় ভরে থাকলেও, সেখানে রেললাইন সংযোগের প্লাটফর্ম থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ, জল এবং যাতায়াতের সমস্ত পরিকাঠামো এখনও টিকে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাক্তন কর্মীরা ইতিমধ্যেই স্থানীয় বিধায়কের কাছে এই বিষয়ে মৌখিক প্রস্তাব দিয়েছেন। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা, রাজ্য সরকার যদি এই পরিত্যক্ত জমিতে নতুন করে সাইকেল কারখানা গড়ে তোলে, তবে এলাকার বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান যেমন নিশ্চিত হবে, তেমনই ফিরে আসবে আসানসোলের সেই পুরনো শিল্প গৌরব। এখন দেখার, সরকারের তরফ থেকে এই দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

Aditi Banik
  • Aditi Banik