প্লেটে বিষ পরিবেশন! কলকাতার ৪০টি নামী রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স বাতিল, বাজেয়াপ্ত ১২২৪ কেজি পচা খাবার

উৎসবের মুখে খাদ্যরসিকদের স্বাস্থ্যের চরম ক্ষতি রুখতে শহরজুড়ে নজিরবিহীন অভিযানে নেমে ৪০টি নামী রেস্তোরাঁ এবং মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স বাতিল করল রাজ্য খাদ্য সুরক্ষা দফতর।

বেশ কিছুদিন ধরে কলকাতার বিভিন্ন এলাকার জনপ্রিয় খাবার দোকান ও রেস্তোরাঁর খাবারের গুণমান নিয়ে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ছিল। তারই ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ও খাদ্য দফতরের বিশেষ এনফোর্সমেন্ট টিম শহরের পার্ক স্ট্রিট, হাতিবাগান, গড়িয়াহাট, সল্টলেক ও মধ্য কলকাতার একাধিক নামীদামী খাবারের দোকানে অতর্কিত হানা দেয়। তল্লাশি চালাতেই চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের—ফ্রিজ থেকে উদ্ধার হয় দুর্গন্ধযুক্ত পচা মাংস, কৃত্রিম বিষাক্ত রঙ মেশানো মশলা এবং নষ্ট হয়ে যাওয়া মিষ্টি তৈরির ছানা ও ক্ষীর।

অভিযানে মোট ১২২৪ কেজি বাসি ও পচা খাবার বাজেয়াপ্ত করে সঙ্গে সঙ্গেই রাসায়নিক মিশিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়। খাদ্য সুরক্ষা বিধি (FSSAI norms) সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা এবং বারবার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও স্বাস্থ্যবিধি না মানার অপরাধে সংশ্লিষ্ট ৪০টি খাদ্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সরাসরি বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেশ কয়েকটি দোকানের বিরুদ্ধে কড়া আইনি মামলা রুজু করা হয়েছে।

একনজরে ফুড দফতরের মেগা অভিযান:

  • কড়া পদক্ষেপ: গুণমান পরীক্ষায় শোচনীয়ভাবে অনুত্তীর্ণ হওয়ায় শহরের ৪০টি নামী রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল।

  • বিপুল পরিমাণ খাবার বাজেয়াপ্ত: পচা মাংস, ব্যবহৃত পোড়া তেল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ছানা মিলিয়ে মোট ১২২৪ কেজি বিষাক্ত খাবার বাজেয়াপ্ত করে ধ্বংস করা হয়েছে।

  • নজরদারি অব্যাহত: উৎসবের মরশুমে যাতে ভেজাল ও ক্ষতিকর খাবার সাধারণ মানুষের পাতে না পৌঁছায়, তার জন্য শহরজুড়ে বিশেষ নজরদারি ও নিয়মিত তল্লাশি জারি থাকবে।

রেস্তোরাঁয় খাওয়ার সময় স্বাদ বা গন্ধ সন্দেহজনক মনে হলে সরাসরি খাদ্য সুরক্ষা দফতরের হেল্পলাইনে অভিযোগ জানাতে সাধারণ ভোক্তাদের অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।