প্রাক্তন মন্ত্রীর সংস্থা থেকে কোটি টাকা সোজা মমতার অ্যাকাউন্টে? পুজো পাস কেলেঙ্কারিতে ED-র মারাত্মক দাবি!

উৎসবের আবহ মিটতেই রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন ধামাকা! দুর্গাপুজোর পাস দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করা হলো রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। আর এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারির পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর বিস্ফোরক দাবিতে কাঁপছে রাজনৈতিক মহল।

ইডির অফিসিয়াল প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে, তৃণমূল জমানায় দুর্গাপুজোর পাস বিক্রির কোটি কোটি টাকা দুর্নীতিতে সরাসরি জড়িয়ে রয়েছেন তৎকালীন মন্ত্রী। শুধু তাই নয়, ইডির প্রেস স্টেটমেন্টে উঠে এসেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা থেকে সরাসরি টাকা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে।

CGO থেকে বেরোতেই লালবাজারের অ্যাকশন

বুধবার সিজিএইচ (CGO) কমপ্লেক্সে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন প্রাক্তন মন্ত্রী। হাজিরা শেষে তিনি বাইরে পা রাখতেই কলকাতা পুলিশের ডিডি (DD) স্পেশাল সেল তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং সরাসরি গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্রের খবর, এই পাস দুর্নীতির মামলায় মূল অভিযোগটি দায়ের হয়েছিল কলকাতা পুলিশের কাছেই। জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তির আবেদনের ভিত্তিতে বউবাজার থানায় একটি নির্দিষ্ট এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে ‘মাস আর্ট’ সংক্রান্ত ওই মামলার ভিত্তিতেই সিজিএইচ কমপ্লেক্সের বাইরে থেকে তাঁকে পাকড়াও করা হয়েছে।

ইডির চাঞ্চল্যকর তথ্য ও তদন্তের নতুন বাঁক

ইডির বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়েছে যে, ইউনেস্কোর স্বীকৃতি এবং দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে যে বিপুল পরিমাণ ভিআইপি ও স্পেশাল পাস তৈরি করা হয়েছিল, তা বিক্রি করে বিপুল পরিমাণের বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সেই আর্থিক দুর্নীতির মূল উৎস ছিলেন প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সংস্থাগুলো।

তদন্তকারীদের নথিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নাম উঠে আসায় এবং তৎকালীন মন্ত্রীর এই আকস্মিক গ্রেফতারিতে নবান্ন থেকে শুরু করে গোটা রাজ্য রাজনীতিতে চরম হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া আর্থিক লেনদেনের উৎস ও আসল তথ্যপ্রমাণ উদঘাটনে ইন্দ্রনীলকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চলেছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় সংস্থা।