“পাশে পঞ্জাব থাকলেও দেশেই প্রথম ইতিহাস গড়বে চণ্ডীগড়!” অমিত শাহের বড় ঘোষণায় নতুন আলোড়ন

পার্শ্ববর্তী রাজ্য পঞ্জাবে মাদকের ভয়াবহ প্রকোপ থাকা সত্ত্বেও চণ্ডীগড়কেই দেশের প্রথম সম্পূর্ণ ‘মাদকমুক্ত শহর’ (Drug-Free City) হিসেবে গড়ে তোলার আত্মবিশ্বাসী অঙ্গীকার ব্যক্ত করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। রবিবার চণ্ডীগড় পুলিশের ৬০তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে সেক্টর ২৬-এর পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই বড় ঘোষণা করেন তিনি।
চণ্ডীগড় পুলিশকে ‘প্রেসিডেন্ট’স কালারস’ প্রদান ছয় দশকের অসামান্য নিষ্ঠা, ত্যাগ ও সফল সুশাসনের স্বীকৃতিস্বরূপ চণ্ডীগড় পুলিশকে মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রেসিডেন্ট’স কালারস’ (রাষ্ট্রপতির পুরস্কার) সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চণ্ডীগড় পুলিশের বীর শহীদদের প্রতি সশ্রদ্ধ শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “১৯৬৬ সাল থেকে দেশের সুরক্ষা ও সন্ত্রাসবাদ দমনে চণ্ডীগড় পুলিশ যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা ভারতীয় পুলিশিংয়ের ইতিহাসে এক স্বর্ণযুগ।”
মাদক দমন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার প্রশংসা মাদক সংক্রান্ত এনডিপিএস (NDPS) আইনের কঠোর প্রয়োগ নিয়ে অমিত শাহ জানান, চণ্ডীগড় পুলিশ নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে ৯৩ শতাংশ অভিযুক্তকে আদালতের মাধ্যমে জেলে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, “সর্বাধিক মাথাপিছু গাড়ি থাকা সত্ত্বেও চণ্ডীগড়ে কখনো যানজট দেখা যায় না। দেশের যেকোনো প্রান্তে গেলে আমি চণ্ডীগড় পুলিশের ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের উদাহরণ দিই।”
পুলিশ বহরে ১৪১টি নতুন আধুনিক গাড়ি পুলিশি পরিষেবা আরও দ্রুত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে এদিন চণ্ডীগড় পুলিশের বহরে ১৪১টি নতুন আধুনিক যানবাহন যুক্ত করা হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রত সাড়া দেওয়ার (Response Time) ক্ষেত্রে চণ্ডীগড় বর্তমানে দেশে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এই নতুন যানবাহন ও আধুনিক পরিকাঠামো যুক্ত হওয়ার ফলে আগামী বছরের মধ্যেই চণ্ডীগড় পুলিশ দেশের এক নম্বর পুলিশ বাহিনী হিসেবে উঠে আসবে। প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠান শেষে সেক্টর ১৭-র তিরঙ্গা পার্ক থেকে চণ্ডীগড়ের জন্য ৯টি নতুন মেগা প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করেন অমিত শাহ।