“নিহতদের ক্ষততে নুনের ছিটে দিচ্ছেন!” ৮৪-র শিখ দাঙ্গার দিনে রাহুলের মেগা সমাবেশ নিয়ে তোপ শাহের

১৯৮৪ সালের মর্মান্তিক ও রক্তক্ষয়ী শিখবিরোধী হিংসার বর্ষপূর্তির দিনেই দিল্লিতে বিরোধী জোটের মেগা সমাবেশ আয়োজন করা নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মারাত্মক অভিযোগ, হাজার হাজার শিখকে নৃশংসভাবে হত্যা করার এই কালো দিনে রাজনৈতিক সভা ডেকে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির ক্ষততে নতুন করে নুনের ছিটে দিচ্ছেন রাহুল ও তাঁর দল।

‘মহব্বতের দোকানে হিংসার বিষ’ রবিবার চণ্ডীগড়ে ২৫৮ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এই কটাক্ষ করেন অমিত শাহ। দিল্লির রামলীলা ময়দানে এদিন বিরোধীদের ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যে দিনটিতে হাজার হাজার অবলা শিখকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছিল, ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছিল এবং অসংখ্য শিশু অনাথ হয়েছিল, সেই অভিশপ্ত দিনেই সমাবেশ ডেকে রাহুল গান্ধীর তথাকথিত ‘মহব্বতের দোকান’ থেকে আসলে ঘৃণাই ছড়ানো হচ্ছে।”

রাজীব গান্ধীর মন্তব্য স্মরণ করিয়ে তোপ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তৎকালীন কংগ্রেস প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর একটি পুরনো বিতর্কিত বক্তব্য স্মরণ করিয়ে দেন শাহ। তিনি বলেন, “হাজার হাজার শিখের মৃত্যুর পর রাজীব গান্ধী মন্তব্য করেছিলেন— ‘বড় গাছ পড়লে মাটি একটু কাঁপেই’। টেলিভিশনে দেখা সেই মন্তব্য আজও ভোলা সম্ভব নয়। এমন সংবেদনহীন মন্তব্য কেবল কংগ্রেস নেতাদের পক্ষেই করা সম্ভব।”

মোদী সরকারের পদক্ষেপের কথা স্মরণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও মনে করিয়ে দেন যে, বছরের পর বছর এই বিচারহীনতার ঘটনা চেপে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই বন্ধ হয়ে যাওয়া মামলাগুলি পুনরায় চালু করা হয় এবং একাধিক দোষীকে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হয়।

ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী কারচুপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এদিন রামলীলা ময়দানে বিরোধী জোটের ডাকা কর্মসূচিটির সময় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে কাঠগড়ায় তুলল কেন্দ্র।