নদীর ধারে একা ধুঁকছিল হাতি শাবক! কেরল থেকে এয়ার লিফটে জামনগরের ভানতারায় নতুন জীবন ফিরে পেল মায়া

জন্মের পরই মায়ের কোল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এক হস্তিশাবক এখন ভরসার ঠিকানা খুঁজে পেল গুজরাতের জামনগরে। নদীর ধারে একা পড়ে থাকা সেই হাতি শাবক মায়াকে কেরল থেকে এয়ার লিফট করে উড়িয়ে আনা হয়েছে বনতারায়। দু’টি পা ভেঙে যাওয়ায় যে শাবকটি আর উঠে দাঁড়াতে পারছিল না, তার সুচিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন অনন্ত আম্বানির উদ্যোগের বিশেষজ্ঞরা।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল। কেরলের মালায়াত্তুর ডিভিশনের কাপরিক্কাড় এলাকা থেকে মায়াকে উদ্ধার করা হয়। জন্মের পর থেকেই মায়ের দুধ না পাওয়ায় সে অত্যন্ত দুর্বল এবং জলশূন্য হয়ে পড়েছিল। নদীর পাড়ে তাকে একা রেখেই মা সহ পুরো হাতির পাল নদী পার হয়ে চলে গিয়েছিল। সেই সময় স্থানীয় বনকর্মী ও চিকিৎসকদের দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা নিরলস যত্নে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে শাবকটি। বন দফতরের কর্মীরাই তার নাম দিয়েছিলেন মায়া।

সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল, কিন্তু বিপদ ফের ঘনায় ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। খেলতে গিয়ে হঠাৎ পড়ে গিয়ে কাঁধে গুরুতর চোট পায় মায়া। সেই চোট সারানোর জন্য ফিজিওথেরাপি সহ নানা রকম চিকিৎসা করা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি। উল্টে মায়ার শরীরের হাড়গুলো আরও দুর্বল ও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। গত অক্টোবরের শেষের দিকে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে নিজের শরীরের ভারে আর উঠে দাঁড়ানোর শক্তিটুকুও ছিল না তার। এর পাশাপাশি তার বুকে মারাত্মক সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং দীর্ঘক্ষণ শুেয়ে থাকার ফলে শরীরে ঘা তৈরি হতে শুরু করে।

অবস্থার অবনতি হওয়ায় কেরলের মুখ্য বনপাল পি পুগাঝেন্ডির বিশেষ অনুমতি নেওয়া হয়। এরপরই অনন্ত আম্বানির উদ্যোগে বিশেষজ্ঞ প্রাণী চিকিৎসকদের কঠোর নজরদারিতে বিমানে করে ১৮ মাস বয়সি মায়াকে কেরল থেকে জামনগরের ভানতারায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে ভানতারার অত্যাধুনিক পশু হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে রাখা হয়েছে তাকে। সেখানে উন্নত পেইন ম্যানেজমেন্ট, বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং সার্বিক চিকিৎসার মাধ্যমে মায়াকে ফের সুস্থ করে তোলার অন্তিম লড়াই শুরু করেছেন চিকিৎসকরা।