দিনে এত ধকল, তাও প্রেসার-সুগার একদম পারফেক্ট! দুর্গাপুরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের ‘ফিটনেস রিপোর্ট’ ফাঁস করলেন মুখ্যমন্ত্রী

উৎসবের মরশুমে একদিকে রাজ্যজুড়ে চষে বেড়ানো এবং অন্যদিকে নিরবচ্ছিন্ন জনসংযোগের পাশাপাশি নিজের নিখুঁত শারীরিক সুস্থতা ও ‘ফিট’ রিপোর্ট প্রকাশ্যে এনে চমকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের বি-জোন নিউটন এলাকায় একটি হাই-প্রোফাইল কালীপুজোর উদ্বোধনে যোগ দিতে গিয়ে নিজেই নিজের ব্লাড প্রেসার ও সুগার পরীক্ষা করান তিনি। পরীক্ষার এই সুসংবাদ সরাসরি মঞ্চে দাঁড়িয়ে উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ঘোষণা করে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানান যে, তাঁর সুগার এবং রক্তচাপ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং চিকিৎসকরা তাঁকে পুরোপুরি সুস্থ সার্টিফিকেট দিয়ে কোনো ধরনের ওষুধ খেতে নিষেধ করেছেন।
বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ের কিছু পরে, রাত প্রায় সাড়ে দশটা নাগাদ দুর্গাপুরের নিউটন এভিনিউয়ের জমকালো কালীপুজো প্রাঙ্গণে সশরীরে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী। দুর্গাপুরের একটি সুপরিচিত বেসরকারি মাল্টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সার্বিক উদ্যোগে পুজোর এই পরিসরে একটি বিশেষ বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। আসানসোল রামকৃষ্ণ আশ্রমের সম্মানিত সম্পাদক মহারাজের হাত ধরে পুজোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্পন্ন হয়। অন্যদিকে, মণ্ডপ সংলগ্ন এই মেগা স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছিলেন বিষ্ণুপুরের সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।
স্বাস্থ্য শিবির ঘুরে দেখার সময় নিজেই নিজের রক্তচাপ পরীক্ষা করিয়ে এক দারুণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরবর্তী সময়ে উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত হালকা মেজাজ ও হাসিমুখের বার্তার মাধ্যমে নিজের শারীরিক ফিটনেসের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। উপস্থিত সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হেলথ ক্যাম্পের উদ্বোধন তো করলেন সাংসদ সৌমিত্র খাঁ! তাই আমার মনে হলো, আমাকেও এই হেলথ ক্যাম্পে এসে অন্তত কিছু একটা করতেই হয়। যদিও সুগার পরীক্ষার জন্য সূঁচ ফোটাতে হতো, সেটা শুনে আমি বারণ করি এবং জানাই যে ওটা আমার প্রয়োজন নেই। কারণ সকালে খালি পেটে আমার সুগার লেভেল সবসময় ৮৪ থাকে। ফলে খাওয়াদাওয়ার পর তা আর আলাদা করে মেপে দেখার কোনো প্রয়োজনই পড়ে না।”
নিজের ব্লাড প্রেসারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আমার প্রেসারটা মাপিয়ে নিলাম। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী সকালে আমার স্বাভাবিক রক্তচাপ থাকে ১২০/৭০। আর এখন ভরা মঞ্চে মেপে দেখলাম সেটা এসেছে ১৩0/৭০। সারাদিনের ধকল ও ক্লান্তির পর এই সামান্য ওঠানামা একদম স্বাভাবিক। উপস্থিত অভিজ্ঞ চিকিৎসকরাও সবটা দেখে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই সামান্য দশ এদিক-ওদিক হওয়া নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তার কোনো কারণ নেই, এবং এর জন্য আমার কোনো ওষুধ খাওয়ারও কোনো প্রয়োজন নেই।”
উল্লেখ্য, রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাঁধে একদিকে যেমন গোটা রাজ্য পরিচালনার কঠিন গুরুদায়িত্ব রয়েছে, তেমনই অন্যদিকে রয়েছে সাধারণ মানুষের বিপুল জনআকাঙ্ক্ষা পূরণের চাপ। প্রতিনিয়ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জেলা সফর, প্রশাসনিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং রাজনৈতিক জনসভার ধকল তাঁকে অবিরত সামলাতে হচ্ছে। এই কঠিন ও ব্যস্ততম রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে দুর্গাপুরের একটি হেলথ ক্যাম্প থেকে দেওয়া তাঁর এই স্বস্তিদায়ক ফিটনেস রিপোর্ট কেবল তাঁর নিজ দলের নেতাকর্মীদেরই মানসিকভাবে চাঙ্গা ও আশ্বস্ত করেনি, বরং রাজনৈতিক বিরোধীদেরও পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে যে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক যেকোনো চাপ একহাতে সামলাতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত ও ফিট রয়েছেন। উৎসবের আবহে স্বাস্থ্য সচেতনতার এমন ব্যতিক্রমী বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি নিজের অদম্য ফিটনেস ও সাবলীল ব্যক্তিত্ব দিয়ে দুর্গাপুরবাসীর মন জয় করে নেন মুখ্যমন্ত্রী।