ছেলেকে বাঁচানো গেল না, তবু তিনজনকে জীবন ফিরিয়ে দিলেন শোকস্তব্ধ বাবা-মা! বিহারে চিকিৎসায় ঐতিহাসিক মাইলফলক

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ষোলো বছরের এক কিশোরের মর্মান্তিক প্রস্থান গোটা রাজ্যকে শোকস্তব্ধ করে দিয়েছে। পাটনার পুনাচকের হনুমান নগরের বাসিন্দা সুভাষ কুমারের একমাত্র কিশোর পুত্র মনু কুমার গত ১৯শে অক্টোবর একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়। মেদান্তা হাসপাতাল থেকে শুরু করে পাটনার নামী চিকিৎসা কেন্দ্র—সব জায়গাতেই আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা তাকে ক্লিনিক্যালি ব্রেন ডেড বলে ঘোষণা করেন। পরিবারের ওপর নেমে আসে চরম বিপর্যয়। তবে পুত্রশোকে মুহ্যমান হয়ে বসে না থেকে মনুর বাবা-মা এমন এক মহৎ ও সাহসী সিদ্ধান্ত নেন, যা চিকিৎসা জগতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। নিজেদের সন্তানকে চিরতরে হারিয়েও তাঁরা তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলি দান করার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবারের এই ত্যাগের ফলে মৃত্যুর পরেও অমর হয়ে রইল মনু। তাঁর দান করা অঙ্গগুলো তিনজন গুরুতর অসুস্থ রোগীর দেহে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। আইজিআইএমএস (IGIMS)-এর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিখুঁত তত্ত্বাবধানে ১৯ বছরের এক তরুণীর শরীরে সফলভাবে লিভার প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া, মনুর দুটি কিডনির মধ্যে একটি আইজিআইএমএস-এ এবং অপরটি পাটনার ইএসআইসি হাসপাতালে অন্য দুই রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে বড় এবং গর্বের দিকটি হলো, এর মাধ্যমে বিহারে প্রথমবারের মতো কোনো সরকারি হাসপাতালের উদ্যোগে সম্পূর্ণ সরকারি খরচে সফল লিভার প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হলো। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে রাজ্য সরকারের এই স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।