দত্তপুকুরে ৪ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতন! ছাদে নিয়ে গিয়ে নৃশংসতা, পুলিশের বিরুদ্ধেও উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

চার বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকন্যাকে যৌন হেনস্তা করার মতো অত্যন্ত জঘন্য ও শিহরণ জাগানো অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত সংলগ্ন দত্তপুকুর থানা এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযুক্তের নাম অর্জুন সরদার (৪০)। সে বিবাহিত বলে জানা গিয়েছে। পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই বারাসত মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।
🧸 ঠিক কী ঘটেছিল দত্তপুকুরে?
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা শিশুটির পরিবার সম্প্রতি দত্তপুকুর এলাকায় নতুন ভাড়া হিসেবে এসে বসবাস শুরু করেছে। এলাকায় নতুন হওয়ায় প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাঁদের বিশেষ পরিচিতিও তৈরি হয়নি।
অভিযোগ, ঘটনার দিন অর্জুন সরদার নামের ওই অভিযুক্ত যুবক দত্তপুকুরে তাঁর এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। সেই সময় শিশুটিকে কোলে নেওয়ার অছিলায় তিনি বাড়ির ছাদে নিয়ে যান এবং তারপরেই ছোট্ট শিশুটির ওপর পৈশাচিক কায়দায় যৌন নির্যাতন চালান।
🏃♀️ মায়ের প্রতিবাদ ও পুলিশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
ছাদ থেকে শিশুটির কান্নার আওয়াজ পেয়ে তার মা দ্রুত ছুটে যান এবং যুবকের কোল থেকে সন্তানকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। তিনি প্রতিবেশীদের কাছে পুরো বিষয়টি জানান। পরের দিন ওই শিশুর মা বাপের বাড়ি চলে গেলেও এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা কঠোর বিচারের দাবিতে সোচ্চার হন। পরবর্তীতে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে বাপের বাড়ি থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।
পরিবারের অভিযোগ, প্রথমে নীলগঞ্জ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করে। শেষপর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দারা এবং হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কর্মীদের সহযোগিতায় দত্তপুকুর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতার মা। অভিযোগ পাওয়ার পরই শুক্রবার রাতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করে।
🏥 হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসায় দেরির অভিযোগ
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিতা শিশুকে চিকিৎসার জন্য বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে চরম উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র অভিযোগ, শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসাগত সাহায্য দেওয়া হয়নি। সে সময় হাসপাতালে কোনো মহিলা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অযথা বিলম্ব হয় বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। যার জেরে হাসপাতালেও বিক্ষোভ দেখান স্থানীয়রা। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সেই মুহূর্তে জরুরি বিভাগে মাত্র একজন মহিলা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকায় কাজ কিছুটা শ্লথ হয়েছিল।
পুলিশ এই স্পর্শকাতর ঘটনার প্রতিটি দিক খতিয়ে দেখছে এবং পকসো আইনের আওতায় কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।