‘ত্রিপুরার অংশ কেটে পূর্ব পাকিস্তানকে উপহার দেন নেহরু!’ ইতিহাস শুধরে চট্টগ্রাম বন্দর ছিনিয়ে আনার ডাক নিশিকান্ত দুবের

পাক-অধিকৃত কাশ্মীর (PoK) ভারতভুক্ত করার দীর্ঘদিনের দাবির মাঝে এবার এক চরম বিস্ফোরক ও ইঙ্গিতপূর্ণ দাবি তুললেন প্রবীণ বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে। শুক্রবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, শুধু PoK-ই নয়, এবার নোয়াখালী, সিলেট এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চট্টগ্রাম বন্দরও ভারতের ‘পুনরুদ্ধার’ করার সময় এসে গেছে। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুলে এই বিজেপি সাংসদের দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রী পদের লোভে জোর করে ইতিহাস বিকৃত করে ওই ভারতীয় ভূখণ্ডগুলি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানকে উপহার হিসেবে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
“নোয়াখালী-সিলেট-চট্টগ্রাম সবই ছিল টিপরা রাজ্যের অংশ!”
সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিশিকান্ত দুবে ইতিহাস ও ভূরাজনীতির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পাতা উস্কে দেন। তিনি দাবি করেন, নোয়াখালী, সিলেট এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত কৌশলগত চট্টগ্রাম বন্দর—এই তিনটি ভৌগোলিক অঞ্চলই আসলে একসময় ঐতিহাসিক ‘টিপরা’ (বর্তমান ত্রিপুরা) রাজ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল।
দুবে জানান, “ত্রিপুরার তৎকালীন রাজা বীর বিক্রম সিং নেহরুর সঙ্গে লাগাতার লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। রাজা প্রশ্ন তুলেছিলেন, তাঁর রাজ্যের অংশ নিয়ে নেহরু কীভাবে দরাদরি করার অধিকার পান? নোয়াখালী পাকিস্তানকে দেওয়া বা সিলেট ও চট্টগ্রামে গণভোট করানোর সিদ্ধান্তের চরম বিরোধিতা করেছিলেন রাজা।” পরবর্তীকালে মহারানি কাঞ্চন প্রভা ১৯৪৮ সালের অক্টোবরে চূড়ান্ত চুক্তিতে (Instrument of Accession) সই করায় ত্রিপুরা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়। কিন্তু তার আগেই নেহরুর মারাত্মক রাজনৈতিক ভুলের কারণে বড় এলাকা হাতছাড়া হয়ে যায়।
“নোয়াখালীতে ১০ হাজার হিন্দু গণহত্যার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারই দামি ছিল নেহরুর”
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বিজেপি সাংসদ বলেন, “নেহরুজি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য অন্ধের মতো ব্যাকুল ছিলেন। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট নয়, বরং ১৯৪৬ সালের ২ সেপ্টেম্বরই তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন। আর তিনি শপথ নেওয়া মাত্রই মুসলিম লিগ ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন ডে’ শুরু করে।”
তিনি আরও যোগ করেন, ১৯৪৬ সালের ১৫ অক্টোবর হিন্দু অধ্যুষিত নোয়াখালীতে যখন ইতিহাসের অন্যতম নির্মম গণহত্যা চালানো হয় এবং একদিনে প্রায় ১০ হাজার হিন্দু প্রাণ হারান, তখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেখানে যাওয়া তো দূর, মুসলিম লিগকে কীভাবে নিজের সরকারের অংশ করা যায়, তা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন নেহরু।
চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়াতেই থমকেছে উত্তর-পূর্বের উন্নয়ন!
চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়াকে গোটা দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এই বিজেপি নেতা। তাঁর মতে:
চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়ায় পুরো উত্তর-পূর্ব ভারতের (North-East India) উন্নয়ন বহু দশক পিছিয়ে গিয়েছে।
সেখানকার প্রাকৃতিক খনি, খনিজ এবং বিপুল গ্যাস ভাণ্ডারের পূর্ণ ব্যবহার ভারত করতে পারছে না।
চট্টগ্রাম, নোয়াখালী এবং সিলেট হাতছাড়া হওয়ায় ভারতের মানচিত্রে ‘চিকেনস নেক’ (Chicken’s Neck)-এর মতো সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ করিডোরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
মুসলিম লিগের রেড আর্মির সদস্যকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বানিয়েছিল কংগ্রেস?
ইতিহাসের আরেক বিতর্কিত পাতা খুলে নিশিকান্ত দুবে দাবি করেন, সিলেটে যে ব্যক্তি গণভোট পরিচালনা করেছিলেন, সেই বাহারুল ইসলাম আদতে মুসলিম লিগের ‘রেড আর্মি’-র সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই রেড আর্মিই নোয়াখালী গণহত্যা এবং চট্টগ্রাম দখলের নেপথ্যে ছিল। অথচ স্বাধীনতার পর কংগ্রেস দল তাঁকে বারবার রাজ্যসভার সাংসদ করে, হাইকোর্টের বিচারপতি পদে বসায় এবং পরবর্তীকালে সুপ্রিম কোর্টেরও বিচারপতি হিসেবে উন্নীত করে।
‘গ্রেটার টিপ্রাল্যান্ড’ ও ইতিহাস সংশোধনের ক্ষণ
নিশিকান্ত দুবের এই মন্তব্যকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া এক্স (X)-এ পোস্ট করেছেন টিপরা মোথা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত বিক্রম মাণিক্য দেববর্মাও। তিনি লিখেছেন, “দেশভাগের সময় আমার ঠাকুমাকে অন্ধকারে রেখে তৎকালীন ভারত সরকার ত্রিপুরা রাজ্যের বিশাল অঞ্চল পূর্ব পাকিস্তানকে দিয়ে দিয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ভুল ও কৌশলগত ত্রুটির মাশুল আজও গোটা দেশকে গুনতে হচ্ছে।”
পরিশেষে বিজেপি সাংসদ সাফ জানান, ইতিহাস সংশোধন করার এখনই উপযুক্ত সময়। ভারতের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং উত্তর-পূর্বের সংযোগ ফেরাতে PoK-এর পাশাপাশি সিলেট, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম বন্দর ভারতভুক্ত করাই এখন সময়ের দাবি।