ডায়মন্ড হারবার পার্টি অফিসে টাকা উদ্ধার ‘সাজানো নাটক’! পুলিশকে তুলোধোনা করে বিস্ফোরক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল কার্যালয় থেকে কোটি টাকার বেশি নগদ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিষেক মজুমদার পূর্বে সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছিলেন যে, হেফাজতে থাকা সাংসদের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়কে জেরা করেই এই বিপুল পরিমাণ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। কিন্তু সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই পুরো ঘটনাটিকে একটি ‘দুর্বল চিত্রনাট্য’ ও সাজানো নাটক বলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। কালীঘাটের বাসভবনের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি সরাসরি পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং একে বিজেপি ও রাজ্য প্রশাসনের যৌথ ষড়যন্ত্র বলে তোপ দাগেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিস্ফোরক অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবারের আইসি নিজেই একটি কালো এসইউভি (SUV-300) গাড়ি করে রাতে পার্টি অফিসে ওই টাকা রেখে এসেছিলেন। তাঁর দাবি, এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সম্পূর্ণভাবে তাঁর হাতে মজুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে তা আদালতে পেশ করা হবে। শুক্রবার সকালে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এ সংক্রান্ত একটি পোস্টও করেন তিনি। আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে অভিষেক জানান, সুমিতকে হেফাজতে নিয়ে চরম মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। তাঁর কথায়, “সুমিত রায়কে বলা হয়েছে, আপনি স্বীকার করুন যে এগুলি আপনি জানেন এবং সিজার লিস্টে সই করুন। নইলে গাইঘাটার মতো এনকাউন্টার করে দেব।” ইতিমধ্যেই সুমিতের স্ত্রী পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।

তদন্তের স্বচ্ছ্বতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক বলেন, “রাজ্য সরকার এবং পুলিশ প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে যে এক কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু সেই খবরের সত্যতা কতটা, তা যাচাই না করেই কিছু সংবাদমাধ্যম একপেশে খবর পরিবেশন করেছে।” গত ৩১ অক্টোবর কালীতলা-আশুতি থানার একটি মামলায় সুমিতকে উস্তি থানার পুলিশ হেফাজতে নেয় বলে জানান তিনি। এই পুরো তদন্তটি বিজেপির প্রত্যক্ষ নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে দাবি করে অভিষেক বলেন, “গত ৪ মে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর ২৭ মে ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস সুমিতের এনকাউন্টারের পক্ষে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছিলেন। সেই নেতার অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে।”

যে কার্যালয় থেকে টাকা উদ্ধার হয়েছে, সেটি মূলত মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামিম আহমেদের। এদিন শামিমকে পাশে রেখেই অভিষেক জানান, তাঁকেও মিথ্যা বয়ান দেওয়ার জন্য পুলিশ লাগাতার চাপ সৃষ্টি করেছে। এমনকি কবে কোন নম্বর থেকে ফোন এসেছিল এবং কবে শামিম পুলিশ সুপারের দফতরে গিয়েছিলেন, তার পুরো খতিয়ানও সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন তিনি। পুলিশ ও প্রতিপক্ষ শিবিরকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘‘মনে রাখবেন, কেন্দ্রের নাম ডায়মন্ড হারবার, আর সাংসদের নাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।’’ একই সঙ্গে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকেও তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, বিধায়কদের দিয়ে জোর করে হলফনামায় সই করানো সম্পূর্ণ বেআইনি এবং ঋতব্রতকে আজীবন জেলে থাকতে হবে। অন্যদিকে, অভিষেকের এই সমস্ত মন্তব্যকে পাত্ত না দিয়ে কটাক্ষের সুরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সবমিলিয়ে, কোটি টাকা উদ্ধার কাণ্ডকে কেন্দ্র করে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা এখন রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।