ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ থামতেই জোড়া ফলার আঘাত! বঙ্গোপসাগরে আবার দানা বাঁধছে নতুন বিপর্যয়

অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ তার শক্তি হারিয়ে অবশেষে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হলেও স্বস্তি মিলছে না বঙ্গবাসীর। বর্তমানে এটি ছত্তীসগঢ়ের ওপর অবস্থান করলেও এর প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গে এখনও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। বড়সড় কোনো ধ্বংসলীলার আশঙ্কা আপাতত না থাকলেও, আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে এক চরম আশঙ্কার কথা। আন্দামান সাগরে তৈরি হওয়া একটি ঘূর্ণাবর্তের কারণে বঙ্গোপসাগরে জন্ম নিতে চলেছে আরও একটি নতুন নিম্নচাপ, যা ধীরে ধীরে শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়ে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হবে। প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী এর অভিমুখ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে হলেও, এর পরোক্ষ প্রভাব পড়বে বাংলাতেও।
এই নতুন আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা কমলেও উত্তরবঙ্গে জারি করা হয়েছে হাই অ্যালার্ট। আজ, ৩০ অক্টোবর শুক্রবার উত্তরবঙ্গের প্রায় প্রতিটি জেলাতেই বৃষ্টিপাতের দাপট বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনায় জারি হয়েছে কমলা সতর্কতা (Orange Alert)। পাশাপাশি কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা (Yellow Alert) জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। সেই সঙ্গে জেলাগুলিতে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে দমকা ঝোড়ো হাওয়া। ১ থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে আংশিক মেঘলা আকাশ থাকলেও কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে শুক্রবার থেকেই সার্বিক বৃষ্টির পরিমাণ হ্রাস পেতে শুরু করবে। তবে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। ৩১ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত অধিকাংশ জেলাতেই শুষ্ক আবহাওয়া বজায় থাকবে। তবে আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী সপ্তাহের শেষের দিকে অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকে বৃহস্পতিবারের মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলায় ফের নতুন করে হালকা থেকে মাঝারি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।