ঘরের স্মার্ট ক্যামেরায় নজর রাখছে হ্যাকাররা? বড় বিপদ এড়াতে আজই বদলে ফেলুন এই সিকিউরিটি সেটিংস!

আধুনিক ডিজিটাল যুগে ব্রডব্যান্ড এবং দ্রুতগতির ৫জি (5G) পরিষেবা চালু হওয়ার পর ঘরোয়া জীবনে ‘ইন্টারনেট অফ থিংস’ বা IoT ডিভাইসের ব্যবহার ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘরে ব্যবহৃত স্মার্ট ক্যামেরা, স্মার্ট টিভি, ভিডিও ডোরবেল, স্মার্ট স্পিকার, রাউটার কিংবা হোম অটোমেশন সিস্টেমের মতো ইন্টারনেটে যুক্ত সমস্ত গ্যাজেটই এই প্রযুক্তি বা IoT-র অংশ। এই ডিভাইসগুলি আমাদের প্রতিদিনের জীবনকে অনেক বেশি সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে ঠিকই, তবে একই সাথে তৈরি করেছে এক আশঙ্কাজনক নিরাপত্তা ঝুঁকি। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনার অজান্তেই ঘরে থাকা এই স্মার্ট সরঞ্জামগুলি এখন হ্যাকারদের প্রধান ও সহজ লক্ষ্য হয়ে উঠছে।

সাইবার বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই বিপদের মূলে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ:

  • আপডেট পলিসির অভাব: বেশিরভাগ নির্মাতা সংস্থা নিত্যনতুন ডিভাইস বাজারে আনার দিকে নজর দিলেও সেগুলির দীর্ঘমেয়াদী সিকিউরিটি আপডেটের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয় না। স্মার্ট ক্যামেরা, ডোরবেল বা হোম হাবের মতো ছোট গ্যাজেটগুলিতে আপডেট সংক্রান্ত স্পষ্ট নির্দেশিকা থাকে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে পুরনো সফটওয়্যার চলায় এগুলিতে বড় ধরনের নিরাপত্তাজনিত ত্রুটি তৈরি হয়।

  • সফটওয়্যার সাপোর্ট বন্ধ হওয়া: বহু সংস্থা নির্দিষ্ট সময় পর পুরনো ডিভাইসে সফটওয়্যার সাপোর্ট দেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ব্যবহারকারীরা না জেনে বছরের পর বছর সেই একই ডিভাইস ব্যবহার চালিয়ে যান, যা সাইবার অপরাধীদের জন্য সহজেই অ্যাক্সেস পাওয়ার পথ খুলে দেয়।

শুধু সাধারণ ঘরবাড়িই নয়, বিভিন্ন অফিস এবং আধুনিক স্মার্ট শহরগুলিতেও এই ধরনের অসুরক্ষিত IoT ডিভাইসের মাধ্যমে বড়সড় সাইবার হামলার ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে।

IoT ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ (সহজ কয়েকটি স্টেপ):

১. ডিফল্ট পাসওয়ার্ড বদলান: যেকোনো নতুন স্মার্ট ডিভাইস বা রাউটার কেনার পরই তার কারখানার দেওয়া ডিফল্ট ব্যবহারকারী নাম (Username) ও পাসওয়ার্ড বদলে একটি শক্তিশালী ও কঠিন পাসওয়ার্ড দিন।

২. নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট: ডিভাইসের ম্যানুয়াল বা অ্যাপে গিয়ে চেক করুন কোনো সিকিউরিটি আপডেট এসেছে কিনা। সর্বদা সর্বশেষ সফটওয়্যার ও ফার্মওয়্যার ভার্সন ব্যবহার করুন।

৩. পৃথক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক (Guest Network): বাড়ির প্রধান ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সাথে ল্যাপটপ বা ফোন যুক্ত রাখুন এবং IoT ডিভাইসগুলির জন্য রাউটারে একটি পৃথক ‘গেস্ট নেটওয়ার্ক’ তৈরি করে সেটিকে যুক্ত করুন। এতে একটি ডিভাইস হ্যাক হলেও আপনার ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ থাকবে।

৪. টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু রাখুন: যেসব অ্যাপ বা ডিভাইসে ২-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে এটি অবশ্যই সক্রিয় করে রাখুন।

৫. অপ্রয়োজনীয় ফিচার বন্ধ রাখুন: ডিভাইসে ব্যবহৃত যে সমস্ত ফিচার বা রিমোট অ্যাক্সেস সুবিধা আপনার কাজে লাগে না, সেগুলি নিষ্ক্রিয় (Disable) করে রাখুন।

Pratik Saha
  • Pratik Saha