‘গুরুদ্বার রাজনীতির আখড়া নয়!’ বাংলা সাহিব কাণ্ডে তোলপাড়ের মাঝেই হেমকুন্ড সাহিব থেকে এল কড়া বার্তা

দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান রাজনৈতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিখ্যাত গুরুদ্বার বাংলা সাহিবে চরম অসন্তোষের আবহ তৈরি হয়েছে। বিক্ষোভ চলাকালে পবিত্র এই গুরুদ্বারের ভেতরে সরকারবিরোধী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন, স্লোগান দেওয়া এবং ধর্মীয় শিষ্টাচার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে এসেছে। এই ঘটনায় শিখ সম্প্রদায়ের শীর্ষ প্রতিনিধিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি ধর্মীয় স্থানগুলির মর্যাদা রক্ষা করার জন্য সোচ্চার হয়েছেন।
উত্তরাখণ্ডের বিশ্বখ্যাত হেমকুন্ড সাহিব কমিটির সভাপতি নরেন্দ্র সিং বিন্দ্রা এবং দেরাদুনের শ্রী গুরু সিং সভা গুরুদ্বারের প্রধান সেবাদার গুরুবক্স সিং যৌথভাবে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
‘গুরুদ্বার সেবা ও মানবতার কেন্দ্র, রাজনীতির মঞ্চ নয়’
হেমকুন্ড সাহিব কমিটির সভাপতি নরেন্দ্র সিং বিন্দ্রা বাংলা সাহিবের ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে বলেন যে, গুরুদ্বার কেবল সাধারণ উপাসনালয় নয়, এটি সর্বজনীন সেবা, নিষ্ঠা ও মানবতার এক অনন্য কেন্দ্র। ধর্মীয় স্থানগুলি সর্বদা অভাবীদের আশ্রয় দেয় এবং ব্যাকুল-ক্ষুধার্তদের অন্নসংস্থান করে। ফলে এই ধরনের পবিত্র জায়গাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা সংঘাতের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা একেবারেই অনুচিত।
তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিক্ষোভ চলাকালে কয়েকজন বিক্ষোভকারী ধর্মীয় নিয়ম ভেঙে জুতো পর্যন্ত না খুলে গুরুদ্বারে প্রবেশ করেছিলেন এবং ভেতরে গোলমাল তৈরি করেছিলেন। বিন্দ্রা মনে করিয়ে দেন, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোটি কোটি ভক্তের ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত হানে। তিনি ভবিষ্যতে যেন কোনোভাবেই এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, তার জন্য কড়া আহ্বান জানান।
‘সেবার মনোভাবকে মর্যাদা দিন, রাজনীতির বাইরে রাখুন’
অন্যদিকে, দেরাদুনের শ্রী গুরু সিং সভা গুরুদ্বারের প্রধান সেবাদার গুরুবক্স সিং স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে, অতীতেও দিল্লির জন্তর মন্তরে বহু আন্দোলন-বিক্ষোভ হয়েছে। আন্দোলনকারীদের ওপর মানবিকতার খাতিরে সর্বদা থাকার জায়গা ও লঙ্গরে খাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য গুরুদ্বার বাংলা সাহিবের দরজা খোলা থেকেছে। শিখ ঐতিহ্যে সেবাই শেষ কথা।
কিন্তু সেবার এই সুমহান ঐতিহ্যকে যেন কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কালিমালিপ্ত করা না হয়, সেই বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি। গুরুবক্স সিং স্পষ্টভাবে জানান, গুরুদ্বার হোক কিংবা মন্দির—যেকোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ঐতিহ্য ও বিশ্বাস রক্ষা করতে সেগুলিকে রাজনৈতিক কোলাহল ও বিক্ষোভের বাইরে রাখা একান্ত আবশ্যক।
বর্তমানে এই ঘটনা সামনে আসার পর, যেকোনো গণবিক্ষোভের সময় ধর্মীয় স্থানগুলির শোভা ও নিয়মকানুন বজায় রাখার বিষয়টি দেশজুড়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।