খোদ নবান্নে ভুয়ো পিএমও আধিকারিক! মন্ত্রীর সন্দেহেই খসে পড়ল মুখোশ, পুলিশি হেফাজতে ‘প্রভাবশালী’ মহিলা

প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) শীর্ষ আধিকারিক পরিচয় দিয়ে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করতে গিয়ে রাজ্য সচিবালয় নবান্ন থেকে হাতেনাতে পাকড়াও এক মহিলা প্রতারক।
রাজ্যের শীর্ষ প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্নে কড়া নিরাপত্তা বলয় টপকে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে প্রবেশ করেছিলেন ওই মহিলা। অভিযোগ, নিজেকে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রভাবশালী আমলা দাবি করে বিভিন্ন সরকারি ফাইল পাশ করানো এবং বদলি ও প্রকল্পের বরাত পাইয়ে দেওয়ার নাম করে বিভিন্ন স্তরে চাপ সৃষ্টি করছিলেন তিনি। এমনকী তাঁর গতিবিধি ও ব্যবহারের আত্মবিশ্বাস দেখে প্রথমটায় নবান্নের নিরাপত্তারক্ষীরাও বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন।
তবে বিষয়টি নজরে আসতেই রাজ্যের এক অভিজ্ঞ মন্ত্রীর সন্দেহ দানা বাঁধে। কথাবার্তার অসংলগ্নতা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের ধরন সংক্রান্ত তথ্যে অমিল পেয়ে মন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে নবান্নের নিরাপত্তা বিভাগ ও রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে সতর্ক করেন। এরপরই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হতেই ভেঙে পড়ে ওই মহিলা এবং তাঁর পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সেটি সম্পূর্ণ ভুয়ো।
একনজরে জালিয়াতির খুঁটিনাটি:
ভুয়ো পরিচয়: প্রধানমন্ত্রীর দফতর (PMO)-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিক সেজে নবান্নে প্রবেশ ও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা।
মন্ত্রীর তীক্ষ্ণ নজর: মন্ত্রীর সন্দেহ ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় নিরাপত্তা আধিকারিকদের তলব এবং মহিলার জাল পরিচয়পত্র উদ্ধার।
তদন্তের অভিমুখ: এই ভুয়ো পরিচয় দেখিয়ে আগে কোথাও কোনও আর্থিক তছরুপ বা সরকারি কাজে বেআইনি হস্তক্ষেপ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
রাজ্য প্রশাসনের সর্বোচ্চ সদর দফতরে এমন দুঃসাহসিক জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসতেই নবান্নের প্রবেশপথে ভিজিটর পাস ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।