কেরল থেকে আকাশপথে বনতারায় এল অসুস্থ হাতি শাবক মায়া! হাড় ভেঙে চলাফেরার শক্তিহীন ছোট্ট প্রাণীর নতুন লড়াই

একাধিক হাড় ভেঙে যাওয়া এবং বুকে মারাত্মক সংক্রমণ নিয়ে চরম সঙ্কটে থাকা ১৮ মাসের হস্তিশাবক মায়াকে কেরলের অভয়ারণ্য থেকে এয়ার লিফট করে উড়িয়ে আনা হল গুজরাতের জামনগরের ভানতারায়। কেরল বন বিভাগের এক মাস ধরে চলা নিরলস চেষ্টার পরেও শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ভানতারার অত্যাধুনিক পশু হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ারে সর্বক্ষণের পর্যবেক্ষণে রেখে তার চিকিৎসা শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৫ সালের ১৯ এপ্রিল। কেরলের মালায়াত্তুরের কাপরিক্কড় এলাকায় নদীর পাড়ে সদ্যোজাত মায়াকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। হাতির পাল নদী পার হয়ে চলে গেলেও মা আর ফেরেনি। জন্মের পর মায়ের দুধ না পাওয়ায় এবং তীব্র জলশূন্যতার শিকার হওয়ায় অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগ ও চিকিৎসকরা দীর্ঘ এক বছর ধরে পরম যত্নে সুস্থ করে তোলেন। বনকর্মীরাই ভালোবেসে তার নাম দিয়েছিলেন মায়া।

কিন্তু গত বছরের ২ জুলাই হঠাৎই ঘটে বিপত্তি। খেলতে গিয়ে পিছলে পড়ে ডান কাঁধে গুরুতর চোট পায় মায়া। এরপর দীর্ঘ ফিজিওথেরাপি ও বিশেষ খাবারদাওয়ার ব্যবস্থা করা হলেও তার ভঙ্গুর হাড়গুলি আর আগের মতো ঠিক হয়নি। অক্টোবর মাসের শেষের দিকে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে নিজের শরীরের ভারে আর দাঁড়ানোর শক্তিটুকুই ছিল না তার। পুকোড়ের ‘কলেজ অফ ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস’-এর চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে জানান, মায়ার শরীরে একাধিক হাড় ভেঙে গেছে, হাড়গুলি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে, বুকে সংক্রমণ ধরেছে এবং দীর্ঘক্ষণ শুয়ে থাকার ফলে শরীরে ঘা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কেরলের চিফ ওয়াইল্ডলাইফ ওয়ার্ডেন ড. পি. পুগাজেন্দি এবং বনতারার এলিফ্যান্ট কেয়ার সেন্টারের প্রধান পশুচিকিৎসক ডা. যদুরাজ খাড়পেকর ও অসমের হাতি বিশেষজ্ঞ ড. কুশল কোঙার শর্মা সহ এক উচ্চপর্যায়ী মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মায়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভানতারায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেইমতো লাইফ সাপোর্ট, জরুরি ওষুধ এবং সর্বক্ষণের মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা সহ তিন জন পশুচিকিৎসক ও পরিচিত পরিচর্যাকারীদের তত্ত্বাবধানে বিমানে করে তাকে জামনগরে নিয়ে আসা হয়।

বর্তমানে ভানতারার সর্বাধুনিক ভেটেরিনারি পরিকাঠামোয় মায়ার পেইন ম্যানেজমেন্ট এবং বিশেষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা এখনও যথেষ্ট অস্থির হলেও, ভানতারার উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার হাত ধরে ছোট্ট মায়া ফের সুস্থ হয়ে নিজের চেনা পৃথিবীতে ফিরে আসবে বলেই আশা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকরা।