কেন বাড়বে বেতন? কারণ দর্শাতে হবে শিক্ষককেই! আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই কি বদলাচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষানীতি?

বদলে যাচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষানীতি! বেতনবৃদ্ধি পেতে হলে জবাবদিহি করতে হবে শিক্ষককেই; জানালেন স্কুলশিক্ষামন্ত্রী

রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় এক বিশাল ও নজিরবিহীন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। এবার থেকে আর এমনি এমনি হবে না পদোন্নতি বা বেতনবৃদ্ধি! বছর শেষে নিজের বেতন কেন বাড়ানো উচিত, তার যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হবে শিক্ষককে নিজেকেই। শুধু তাই নয়, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এক ক্লাসের সব বিষয় একজন শিক্ষককেই পড়াতে হতে পারে।

বৃহস্পতিবার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে প্রশাসনিক, পরিকাঠামো এবং পঠনপাঠন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন।

কেন এই সিদ্ধান্ত? কড়া বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর

শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্লাসে পঠনপাঠনের মান বাড়াতে এবং শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল করে তুলতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

  • বেতনবৃদ্ধির জবাবদিহি: শিক্ষাবর্ষের শেষে কোনো শিক্ষকের ইনক্রিমেন্ট (বেতনবৃদ্ধি) কিংবা প্রমোশন হওয়া উচিত কি না—সেই সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককেই। নিজের পারফরম্যান্স ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষককে ব্যাখ্যা করতে হবে যে তিনি কেন পদোন্নতি বা বেতনবৃদ্ধির যোগ্য।

  • জবাব না মিললে কোপ: পঠনপাঠনে কোনো গাফিলতি থাকলে বা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে আটকে যেতে পারে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি ও পদোন্নতি।

প্রাথমিকে আসছে একাধিক বড় পরিবর্তন!

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক স্তরে একাধিক নতুন নিয়ম বলবৎ করতে চলেছে শিক্ষা দফতর।

  • এক ক্লাসে এক শিক্ষক: নতুন ভাবনা অনুযায়ী, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে সমস্ত বিষয় পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে একজন শিক্ষককেই। এতে ছাত্র ও শিক্ষকের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়বে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার অগ্রগতির ওপর নজর রাখা সহজ হবে।

উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানান, সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্লাসরুমে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতেই প্রাথমিক স্তরে এই আমূল পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। রাজ্য শিক্ষা দফতরের এই নতুন সিদ্ধান্ত সামনে আসতেই শিক্ষা মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।