এক লহমায় ল্যান্ডিং! ‘আইএনএস বিক্রান্ত’-এ নামল রাফাল ফাইটার জেট, ভারতীয় নৌসেনার বিশ্বজয়ের বার্তা

সমুদ্রসীমা সুরক্ষায় ভারতীয় নৌসেনার সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হলো আরও এক অনন্য পালক। প্রথম প্রচেষ্টাতেই সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম বিমানবাহী রণতরী ‘আইএনএস বিক্রান্ত’ (INS Vikrant)-এর ডেক-এ সফলভাবে অবতরণ (Landing) করল অত্যাধুনিক ‘রাফাল মেরিন’ (Rafale Marine) ফাইটার জেট। গত ২৯ অক্টোবর বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগর সংলগ্ন সমুদ্রসীমার কাছে ঘটা এই ঐতিহাসিক ল্যান্ডিংকে ভারতীয় নৌসেনার শক্তি বৃদ্ধিতে এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দীর্ঘ পরীক্ষার পর সাফল্য প্রশাসন ও নৌসেনা সূত্রে খবর, আইএনএস বিক্রান্ত থেকে এই শক্তিশালী যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য প্রযুক্তিগত দিক থেকে কী কী পরিবর্তনের প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখতে গত কয়েকদিন ধরেই গোয়ার বিমানঘাঁটিতে রাফাল বিমানের বিভিন্ন ট্রায়াল চালাচ্ছিল ভারতীয় নৌসেনা। রণতরীর সঙ্গে এই ফাইটার জেটের নিখুঁত সামঞ্জস্য পরীক্ষা এবং ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে এটিকে তাত্ক্ষণিকভাবে মোতায়েন করার লক্ষ্যেই এই সফল ল্যান্ডিং পরিচালনা করা হয়।
৬৩,০০০ কোটি টাকার মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি উল্লেখ্য, গত বছর এপ্রিল মাসে ফরাসি সরকারের সঙ্গে প্রায় ৬৩,০০০ কোটি টাকার এক মেগা প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করে ভারত। এই চুক্তির অধীনে ভারতীয় নৌসেনার জন্য মোট ২৬টি রাফাল বিমান কেনা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে:
২২টি সিঙ্গেল-সিটার ফাইটার বিমান।
৪টি টুইন-সিটার ট্রেনার বিমান।
কেবল বিমানই নয়, এই বিশাল প্যাকেজের মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক অস্ত্রসম্ভার, সিমুলেটর, বৈমানিকদের আন্তর্জাতিকমানের প্রশিক্ষণ ও সামগ্রিক লজিস্টিক সহায়তা। চুক্তির অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে সমস্ত বিমানের সরবরাহ সম্পূর্ণ করবে ফ্রান্স। পাশাপাশি ভারতের মাটিতেই রাফাল বিমানের ফুসেলেজ তৈরির কারখানার পাশাপাশি ইঞ্জিন, সেন্সর ও অস্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিক মেরামতের কেন্দ্রও গড়ে তোলা হবে।
ভারত মহাসাগরে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য বর্তমানে কেবল ফরাসি নৌসেনা কর্তৃক ব্যবহৃত এই ‘রাফাল মেরিন’ বিশেষভাবে সমুদ্রের বুক থেকে যুদ্ধ করার জন্য তৈরি। আকাশে ও সমুদ্রে শত্রুপক্ষের ওপর সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত হামলা চালাতে এবং সমগ্র ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান নজরদারি ও আধিপত্যকে ধুয়েমুছে দিতে ভারতের এই নয়া শক্তি অত্যন্ত সিদ্ধান্তমূলক ভূমিকা পালন করবে।