এক ক্লিকেই তোলপাড় নেটপাড়া! ডিভোর্স থেকে কুণাল ঘোষ—স্বরূপ বিশ্বাসকে সোজাসুজি আইনি হুঁশিয়ারি জুঁইয়ের

দাম্পত্য কলহ এবং রাজনৈতিক তরজা যেন এখন নেটপাড়ার সবচেয়ে চর্চিত বিষয়। তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাসের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বোমা ফাটালেন কলকাতা পুরনিগমের প্রাক্তন কাউন্সিলর জুঁই মজুমদার বিশ্বাস। মঙ্গলবার গভীর রাতে এক কড়া বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, বিচারাধীন বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রায়াল চালানো সম্পূর্ণ আইনবিরুদ্ধ। স্বামী স্বরূপ বিশ্বাস (যিনি ইতিমধ্যেই ডিভোর্সের আবেদন করেছেন) এবং তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে বড়সড় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে নাবালক সন্তানদের নাম প্রকাশ্যে আনা হলে আদালত অবমাননা ও মানহানির মামলার কড়া বার্তা দিয়েছেন জুঁই।
ঘটনার সূত্রপাত মঙ্গলবার রাতে, যখন সন্তান ও বিচ্ছেদ সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্ট করেন স্বরূপ বিশ্বাস। সেই পোস্টে জুঁইয়ের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন যে, তাঁকে সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। ওই পোস্টের পরই গভীর রাতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ময়দানে নামেন জুঁই মজুমদার বিশ্বাস। বিচারাধীন বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার ঘোর বিরোধিতা করে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন যে, তাঁর এবং স্বরূপ বিশ্বাসের বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। পাশাপাশি, তাঁদের নাবালক সন্তানদের সংক্রান্ত বিষয়গুলিও সম্পূর্ণভাবে আদালতের আওতাধীন রয়েছে। তাই প্রকাশ্যে এই মামলা নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি না করে সমস্ত অভিযোগের উপযুক্ত জবাব আদালতেই দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ধরনের প্রচারকে বেআইনি ও আদালত অবমাননার শামিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
স্বামীর ফেসবুক পোস্টের প্রতিটি অভিযোগ ধরে ধরে জনসমক্ষে কাদা ছোড়াছুড়িতে নারাজ জুঁই। এই বিষয়ে তাঁর অত্যন্ত স্পষ্ট বক্তব্য, স্বরূপ বিশ্বাস বিচারাধীন বিষয় ও নাবালক সন্তানদের নিয়ে লম্বা পোস্ট করলেও তিনি তার বিন্দুবিসর্গও প্রকাশ্যে উত্তর দেবেন না, কারণ তা আইনবিরুদ্ধ। তাঁর প্রতিটি দাবির সত্যতা ও মিথ্যাচার বিচারালয়েই প্রমাণিত হবে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা তথা দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের সাম্প্রতিক একটি রাজনৈতিক পোস্টেরও কঠোর প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন জুঁই। পুরভোটে টিকিট বণ্টন সংক্রান্ত কুণালের একটি পোস্টে ‘এক নেতার ভ্রাতৃবধূ’ মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন যে, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক কাজ সমালোচনার আওতায় আসতেই পারে, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত বিবাহ, বিচারাধীন মামলা এবং তাঁর সন্তানরা কখনই রাজনৈতিক মন্তব্য বা অনুমানের খোরাক হতে পারে না।
এরপরই স্বরূপ বিশ্বাস ও কুণাল ঘোষের নাম উল্লেখ করে কার্যত চূড়ান্ত সতর্কবার্তা জারি করেন জুঁই মজুমদার বিশ্বাস। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিচারাধীন মামলা এবং সন্তানের হেফাজত নিয়ে কোনও ধরনের তথ্য পোস্ট, শেয়ার বা মন্তব্য করা থেকে অবিলম্বে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি, তাঁর নাবালক সন্তানদের নাম নেওয়া বা তাদের নিয়ে কোনওরকম অপ্রয়োজনীয় আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। প্রতিটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং মন্তব্যের ডিজিটাল প্রমাণ ইতিমধ্যেই সংরক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়ে জুঁই হুঁশিয়ারি দেন যে, এর অন্যথা হলে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে রিপোর্ট করা হবে এবং কড়া দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনে আদালত অবমাননা এবং মানহানির মামলা দায়ের করা হবে। সবশেষে সংবাদমাধ্যম ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছে সমস্ত জল্পনা ও গুঞ্জন না ছড়ানোর বিনীত আবেদন জানিয়ে তিনি জানান, তাঁর জীবনের একমাত্র অগ্রাধিকার হলো তাঁর দুই মেয়ের মানসিক সুস্থতা এবং তাদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রাখা।