উত্তরবঙ্গে এক টুকরো কাশ্মীর! কালিম্পংয়ের এই অফবিট গ্রামেই লুকিয়ে আছে মর্তের স্বর্গ

পাহাড়ের মানুষের কাছে ‘পাশাবং’ শব্দটির অর্থ একগুচ্ছ ফুলের বাগান। সমতলের সঙ্গে পাহাড়ের এই অপূর্ব মেলবন্ধনই এখন পর্যটন মানচিত্রে খুলে দিচ্ছে এক নতুন দিগন্ত। যেন বুদ্ধদেব গুহের কোনো রোমান্টিক উপন্যাসের পাতা থেকে উঠে আসা নিখুঁত প্রেক্ষাপট। কালিম্পং জেলার লাভা ব্লকের এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রামটি আজ গ্রামীণ পর্যটনের এক অনন্য মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। চাকরির ওপর চিরকালের নির্ভরতা ঝেড়ে ফেলে স্বনির্ভর হওয়ার যে স্বপ্ন ৯ জন বেকার তরুণ-তরুণী দেখেছিলেন, তা আজ রাজেন প্রধানের হাত ধরে বাস্তব রূপ নিয়েছে। রোশান রাই, পূর্ণ রাই, পূজা দাস, প্রশান্ত প্রধান, অমিত দে, রবি রাই ও দাওয়া লামার মতো যুবকদের সেই স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়িয়েছে গোটা গ্রাম।

নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এই পুরো এলাকাটি চেরি ব্লসমের গোলাপি ফুলে ঢেকে যায়, যা দেখে পর্যটকদের মনে হতে বাধ্য যে উত্তরবঙ্গে এসে গিয়েছে এক টুকরো কাশ্মীর। গ্রামের পাশ দিয়েই বয়ে চলা গীতখোলা নদীর কলকল শব্দ মানসিক সমস্ত ক্লান্তি দূর করে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়। শুধু তাই নয়, পাহাড়ি চা বাগানের সবুজ সৌন্দর্য এবং পাশেই মিরিকের আদলে তৈরি নকদাড়া ঝিলে নৌকো বিহারের সুযোগ পর্যটকদের আনন্দকে দ্বিগুণ করে তোলে। এছাড়া এখান থেকে কাফেরগাঁও, রিসব, লাভা, কোলাখাম এবং ঝান্ডির মতো বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত করাও অত্যন্ত সহজ।

এই গ্রামের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার কৃষিকাজ সম্পূর্ণ রাসায়নিক মুক্ত; কৃষকরা শতভাগ গোবর সার ব্যবহার করে ফসল ফলান, যার স্বাদ অনন্য। পাশাবংয়ে পৌঁছানোর জন্য পর্যটকদের নিউ মাল জংশন বা এনজিপি স্টেশন কিংবা বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামতে হবে। সেখান থেকে গরুবাথান ও ঝাণ্ডীর শুনতালি হয়ে খুব সহজেই এই মায়াপুরীতে পৌঁছানো সম্ভব। সম্প্রতি জিটিএর ভাইস চেয়ারম্যান শঙ্খবির সুব্বা এই প্রকল্পের উদ্বোধন করে এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সবমিলিয়ে, পাহাড়ি সংস্কৃতির মেলবন্ধনে গড়া এই স্বপ্নপুরী পাশাবং যে আগামী দিনে গ্রামীণ পর্যটনের এক নতুন ইতিহাস লিখবে, তা বলাই বাহুল্য।