. ইভিএম নাকি ব্যালট paper—সমস্যা কোথায়? চার রাজ্যে ২৮ আসনে কংগ্রেস ‘বিগ জিরো’, মোদী-জোশীর চরম কটাক্ষ!

চার রাজ্যের বিধায়ক পরিষদ (Legislative Council) নির্বাচনে অভূতপূর্ব ও শোচনীয় বিপর্যয়ের মুখে পড়ল কংগ্রেস। উত্তর প্রদেশ, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র এবং বিহার— দেশের এই চার রাজ্যের মোট ২৮টি বিধান পরিষদ আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে একটি আসনেও জয় তুলে নিতে পারেনি দেশের প্রাচীনতম এই রাজনৈতিক দলটি। এই চরম ভরাডুবির পর কংগ্রেসকে বিনাবাক্যে বিঁধতে ছাড়েনি বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহল্লাদ জোশী— সবাই কংগ্রেসকে তীব্র খোঁচায় বিন্যস্ত করেছেন।

India Today

‘বাটন হোক বা ব্যালট, রেজাল্ট একই’

বুধবার চার রাজ্যের বিধান পরিষদ নির্বাচনের ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আসার পর দেখা যায়, কোনো রাজ্যেই কংগ্রেসের খাতা খোলেনি। ফলাফল ঘিরে সরব হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহল্লাদ জোশী টুইট/সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “বাটন হোক বা ব্যালট— রেজাল্ট কিন্তু একই। চার রাজ্য মিলিয়ে ২৮টি বিধান পরিষদ আসনের মধ্যে কংগ্রেস পুরোপুরি ওয়াশআউট হয়ে গিয়েছে। দেশজুড়ে একটি শূন্য আসনও তারা জিততে পারেনি।”

প্রহল্লাদ জোশী আরও কটাক্ষ করে বলেন, “যে দলটি প্রায় নিরলসভাবে দেশের ‘ভোট চুরি’র বানোয়াট তত্ত্ব প্রচার করে বেড়ায় এবং সমস্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বারে বারে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়, আজ সেই দল নিজেই একটি আসনেও খাতা খুলতে ব্যর্থ হলো। এমনকি নিজেদের শাসিত রাজ্য কর্নাটকেও, যেখানে তারা স্বগর্বে ক্ষমতায় রয়েছে, সেখানে নিজেদের জেতা বিদায়ী আসনটিও হাতছাড়া করতে হয়েছে তাদের।”

ইভিএম বিতর্ক ও আত্মসমালোচনার বার্তা

কংগ্রেসের নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা প্রকাশের প্রবণতাকে নিশানা করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, “কংগ্রেস প্রায়ই ইভিএম (EVM) নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও কারচুপির অভিযোগ প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু ব্যালট পেপারে ভোটগ্রহণ হলেও যে ফলাফলে কোনো হেরফের হয় না, এই ফলই তার প্রমাণ। যখনই জনতার রায় নিজেদের বিরুদ্ধে যায়, তখনই কংগ্রেস ব্যবস্থার ঘাড়ে বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর দোষ চাপায়। কিন্তু কোনো অজুহাতই জনগণের রায়কে ঢেকে রাখতে পারবে না।”

রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বকে পরামর্শ দিয়ে জোশী বলেন, একের পর এক নির্বাচনে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হওয়ার পরেও কোনো প্রমাণ ছাড়া অনিয়মের অভিযোগ না তুলে, দলের উচিত নিজেদের সাংগঠনিক ব্যর্থতা নিয়ে গভীরভাবে আত্মসমালোচনা করা। চার রাজ্যে কংগ্রেসের এই ফল নিশ্চিতভাবেই ২৪-এর পরবর্তী রাজনৈতিক আবহে বিজেপির ঝুলিতে বাড়তি অক্সিজেন এনে দিল।