ইডির চিঠি আসতেই দলবদলুর মতো কথা!’ মদন মিত্রের বিস্ফোরক মন্তব্যের পরই ধুয়ে দিলেন কুণাল ঘোষ

রাজ্যের রাজনীতিতে ফের এক মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটালেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্র। আজ তিনি এক সাক্ষাৎকারে সরাসরি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বাম আমলের সেই ঐতিহাসিক ‘সিঙ্গুর আন্দোলন এক বিরাট ভুল ছিল’! শুধু তাই নয়, এর নেপথ্যে তৎকালীন রাজনৈতিক মূল্যায়ন ভুল ছিল এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন তিনি। আর মদন মিত্রের এই মন্তব্যের পরই কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন মমতা-পন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।

সিঙ্গুর আন্দোলন ও টাটা প্রস্থান নিয়ে মদনের বিস্ফোরক দাবি

মদন মিত্রের মতে, টাটার বিকল্প হিসেবে রাজ্যে একটি বড় শিল্প অবশ্যই দরকার ছিল। তিনি জানান, সেই সময় সিঙ্গুর আন্দোলনের ভিত্তি বা ফাউন্ডেশন বিশ্বজুড়ে এত বড় মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তাঁর ব্যক্তিগত অনুমানের কথা জানিয়ে মদন বলেন, “রাজভবনে শেষ মিটিংয়ের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হয়তো কিছুটা পিছু হঠতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাটারাই একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে তাঁরা এই ঝামেলার মধ্যে থাকবেন না এবং চলে যান। তৃণমূল কিন্তু আক্ষরিক অর্থে টাটাদের তাড়ায়নি।”

সাংবাদিকরা যখন তাঁকে প্রশ্ন করেন যে ধর্মতলায় ২৬ দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনশন এবং সিঙ্গুরের মাটিতে তিনি নিজে যেভাবে আন্দোলন আগলে ছিলেন, তাতে কি তাঁর এখন মনে হয় তাঁরা ভুল করেছিলেন?

উত্তরে মদন মিত্র সাফ জানান, “আমি একার ভুল বলব না, তবে সামগ্রিকভাবে আমাদের দলের সেই রাজনৈতিক মূল্যায়নে ভুল ছিল। আমরা পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলাম। বলতাম সবুজ বিক্রি করে কংক্রিটের জঞ্জাল হতে দেব না। কিন্তু জমি ছাড়া কি শিল্প ছাদের ওপর হবে? মাটি মানেই তো সেখানে ঘাস বা সবুজ থাকবে।” একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের শিল্পনীতি এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেওয়া পদক্ষেপগুলিকে স্বাগত জানিয়ে মন্তব্য করেন যে, ইতিহাস একদিন প্রমাণ করবে তাঁদের সেই রাজনৈতিক চিন্তা ভুল ছিল।

ইডির চিঠির প্রসঙ্গ টেনে মদনকে তুলোধনা কুণালের

মদন মিত্রের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। মমতা-পন্থী তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, মদন মিত্রের এই সমস্ত মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে অন্য কারণ।

কুণাল ঘোষ সরাসরি কটাক্ষ করে বলেন, “মদন মিত্রের এই যে হঠাৎ ‘তৃতীয় নেত্র’ উন্মোচন হয়েছে, এর পুরোটার পিছনে রয়েছে সম্প্রতি ওঁর বাড়িতে ইডির চিঠি আসার ঘটনা! বউদির নামে ইডির নোটিশ আসার ঠিক আগে পর্যন্ত ওঁর ডায়লগ ছিল—‘আমার মৃতদেহের উপরও যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোড়া ফুলের পতাকা থাকে।’ সুতরাং, যাঁদের রাজনৈতিক অবস্থান বা বক্তব্য ইডি বা কেন্দ্রীয় এজেন্সির চিঠির ওপর ভিত্তি করে রাতারাতি বদলে যায়, তাঁদের কথার কোনও বাড়তি গুরুত্ব আছে বলে আমি মনে করি না।”

একসময়ের প্রবল দলীয় সহকর্মীদের এই পারস্পরিক আক্রমণ ও সিঙ্গুর নিয়ে নতুন বিতর্কে সরগরম রাজ্য রাজনীতি।