আসল তৃণমূল কে? জোড়াফুল প্রতীক কার হাতে থাকবে? সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বড় মোড়, স্বস্তি পেল দুই পক্ষই

বাংলার রাজনীতিতে দলীয় পরিচয় এবং আইনগত অধিকার নিয়ে চলা লড়াই এক নতুন ও চূড়ান্ত আইনি মোড়ের দিকে এগোচ্ছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) নাম এবং তার অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘জোড়াফুল’ প্রতীক কার দখলে থাকবে— এই নিয়ে চলমান তীব্র আইনি বিবাদে এবার দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ সময় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। নির্বাচন কমিশনের (EC) সামনে নিজেদের সমস্ত যুক্তি ও নথিপত্র পেশ করার জন্য উভয় পক্ষকেই অতিরিক্ত ২০ দিনের সাময়িক স্বস্তি ও সময় মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ বেঞ্চের রায়
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ বেঞ্চে সোমবার এই মামলার শুনানি হয়।
মামলায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জী। অন্যদিকে, ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন অপর গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করেন প্রবীণ আইনজীবী কে পরমেশ্বর। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পরেই আদালত এই নির্দেশ জারি করে।
আইনি লড়াইয়ের নেপথ্যের কারণ
শুনানি চলাকালীন কল্যাণ ব্যানার্জী জোরালো যুক্তি দিয়ে জানান যে, ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এখনও নির্বাচন কমিশনের কাছে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে প্রয়োজনীয় আবেদনপত্র ও নথিপত্র জমা দেয়নি।
এর জবাবে বিপক্ষ আইনজীবী কে পরমেশ্বর আদালতের কাছে যুক্তি দেন যে, রাজ্যে দুর্গাপুজো ও দশেরার উৎসব চলার কারণে নির্বাচন কমিশনে নথি জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্যই মূলত অতিরিক্ত সময়ের আবেদন জানানো হয়।
কী নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত?
উভয় পক্ষের অসুবিধা ও যুক্তির কথা বিবেচনা করে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট টাইমলাইন বেঁধে দিয়েছে:
প্রথম ১০ দিন: ঋতব্রত ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের পাল্টা হলফনামা (Counter Affidavit) ও প্রয়োজনীয় নথি দাখিল করার জন্য ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী ১০ দিন: বিরোধী পক্ষের সেই জবাব পাওয়ার পর মমতা ব্যানার্জী নেতৃত্বাধীন দলটিকেও তাদের বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার জন্য আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হবে।
পাশাপাশি আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, নিজ নিজ দাবির সমর্থনে নির্বাচন কমিশনের কাছে যে সমস্ত নথিপত্র জমা দেওয়া হবে, তার গ্রহণযোগ্যতা ও সত্যতা নিয়ে উভয় পক্ষই আইনি প্রশ্ন তোলার অধিকার রাখবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে আগামী চার মাসের মধ্যে এই নাম ও প্রতীক সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী বিবাদের আইনি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দিয়েছিল। এখন দেখার বিষয়, আগামী ২০ দিনের আইনি প্রক্রিয়া শেষে নির্বাচন কমিশন ঠিক কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।