আর হয়রানি নয় পাটনার রাস্তায়! স্কুল-কলেজের হাজারো সমস্যার সমাধানে বিপ্লব আনল বিএসইবি

বিহার স্কুল পরীক্ষা বোর্ড (বিএসইবি) ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য এক যুগান্তকারী ও স্বস্তিদায়ক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এখন থেকে শিক্ষা সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা বা অভিযোগের সমাধানের জন্য রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষকে আর রাজধানী পাটনা পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে না। বোর্ড কর্তৃপক্ষ রাজ্যজুড়ে মোট নয়টি বড় শহরে অবস্থিত তাদের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলিকে সরাসরি তদন্ত ও অভিযোগ নিষ্পত্তি কেন্দ্র (ইনকোয়ারি অ্যান্ড গ্রিভান্স রিড্রেসাল সেন্টার) হিসেবে গড়ে তুলেছে। এর ফলে একদিকে যেমন যাতায়াতের খরচ ও অতিরিক্ত সময় বাঁচবে, অন্যদিকে প্রশাসনিক কাজের গতিও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

নয়টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের এই তালিকা এবং তাদের নির্দিষ্ট ঠিকানাগুলো নিচে দেওয়া হলো:

পাটনা: সরকারি বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাস্ত্রী নগর, পাটনা-৮০০২৩

মুজাফফরপুর: বিবি কলেজিয়েট ক্যাম্পাস, মুজাফফরপুর-৮৪২০০১

ছাপড়া: বিশ্বেশ্বর সেমিনারি ক্যাম্পাস, ছাপড়া-৮৪১৩০১

দারভাঙ্গা: জেলা স্কুল ক্যাম্পাস, দারভাঙ্গা-৮৪৬০০৩

সহরসা: জেলা স্কুল ক্যাম্পাস, সহরসা-৮৫২২০১

পূর্ণিয়া: জেলা স্কুল ক্যাম্পাস, পূর্ণিয়া-৮৫৪৩০১

ভাগলপুর: জাগলাল হাই স্কুল ক্যাম্পাস, ভাগলপুর-৮১২০০২

মুঙ্গের: জেলা স্কুল ছাত্রাবাস, মুঙ্গের-৮১১২০১

গয়া: হরিদাস সেমিনারি +২ স্কুল ক্যাম্পাস, গয়া-৮২৩০০১

এই কেন্দ্রগুলিতে কেবল পরীক্ষার্থী বা পড়ুয়ারা নন, বরং শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিরাও নানা পরিষেবা ও প্রতিকার লাভ করবেন। ম্যাট্রিকুলেশন, ইন্টারমিডিয়েট, এসটিইটি (STET) এবং ডি.এল.এড (D.El.Ed.) সহ সমস্ত ধরনের বোর্ড পরীক্ষা সংক্রান্ত অভিযোগ এখানে জমা দেওয়া যাবে। পাশাপাশি স্কুলগুলির অধিভুক্তি (অ্যাফিলিয়েশন), সরকারি অনুদান, ছাত্রছাত্রীদের বৃত্তি এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের পেনশন সংক্রান্ত যেকোনো জটিলতাও এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব হবে।

অভিযোগ দায়ের করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাখা হয়েছে। প্রতিটি আবেদন বা অভিযোগ গ্রহণ করার পর সেটিকে একটি নির্দিষ্ট ইউনিক রেফারেন্স নম্বর প্রদান করা হবে। এই নম্বরের সাহায্যে আবেদনকারীরা যেকোনো সময় তাদের অভিযোগের বর্তমান অবস্থা বা আপডেট ট্র্যাক করতে পারবেন। অভিযোগ নথিভুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তা অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মূল শাখায় স্থানান্তরিত করা হবে এবং সমস্যার সমাধান হলে তা এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমে সরাসরি আবেদনকারীকে জানিয়ে দেওয়া হবে। বিহার বোর্ডের এই জনমুখী ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।