রাতের পর রাত বালিশের কাছে মোবাইল রেখে ঘুমানোর অভ্যাস? বিজ্ঞান যা প্রকাশ করল তা শুনলে চমকে উঠবেন!

আজকের এই অতি-সংযুক্ত ও আধুনিক ডিজিটাল যুগে আমাদের জীবনের এক সেকেন্ডও স্মার্টফোন ছাড়া কাটানো প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ঘুম থেকে চোখ খোলার মুহূর্ত থেকে শুরু করে গভীর রাতে বিছানায় যাওয়ার ঠিক আগের সেকেন্ড পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোলিং, চ্যাটিং কিংবা ওয়েব সিরিজ দেখা আমাদের দৈনন্দিন রুটিনের অংশ। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি বড় অংশ দিনের পর দিন মানুষকে মারাত্মক এক সাধারণ অভ্যাসের বিষয়ে সতর্ক করে চলেছেন— আর তা হলো রাতে ঘুমানোর সময় বালিশের ঠিক পাশেই স্মার্টফোন রেখে দেওয়া। এই ছোট অথচ অত্যন্ত ক্ষতিকর অভ্যাসটি নীরবে আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন আমরা ঘুমানোর সময় বালিশের কাছে মোবাইল ফোনটি রাখি, তখন ফোন থেকে নির্গত তড়িৎ-চৌম্বকীয় তরঙ্গ বা রেডিয়েশন সরাসরি আমাদের মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব ফেলে। যদিও স্মার্টফোন থেকে নির্গত এই রেডিয়েশনের মাত্রা কম মনে হতে পারে, তবুও দীর্ঘ সময় ধরে এই অদৃশ্য তরঙ্গের সংস্পর্শে থাকার কারণে তীব্র মাইগ্রেন, ক্রনিক মাথাব্যথা, স্নায়বিক দুর্বলতা এবং মানসিক অবসাদের মতো জটিল সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি, স্ক্রিন থেকে আসা নীল আলো বা ব্লু-লাইট মস্তিষ্কের মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এই হরমোনটিই আমাদের গভীর ও শান্তির ঘুম নিশ্চিত করে। ফলে বালিশের কাছে ফোন থাকলে ঘুমের চক্র মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়ার মতো রোগের সৃষ্টি করে।
শুধু তাই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে বালিশের নিচে বা বিছানায় ফোন চার্জে বসিয়ে ঘুমানোর প্রবণতা এক ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারির কারণে স্মার্টফোন অনেক সময় অতিরিক্ত গরম হয়ে ফেটে যাওয়ার বা আগুন ধরে যাওয়ার মতো মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ঘুমের আচ্ছন্নতায় সেই উত্তপ্ত ফোন বালিশের তুলো বা বিছানার চাদরের সংস্পর্শে এসে প্রাণঘাতী বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাই সুস্থ ও নিরাপদ জীবনযাপন করতে হলে আজই এই বদভ্যাস ত্যাগ করুন। শোওয়ার সময় ফোনটিকে নিজের বিছানা থেকে অন্তত কয়েক ফুট দূরে কোনো টেবিলে রাখুন অথবা রাতে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে থেকে সমস্ত ডিজিটাল ডিভাইস থেকে সম্পূর্ণ দূরত্ব বজায় রাখুন।