রাজ্যের সমস্ত স্কুলে এবার মিড-ডে মিল দেবে ইসকন! বিরাট সিদ্ধান্ত নিল শিক্ষা দপ্তর

রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকার পোষিত বিদ্যালয়গুলিতে মিড-ডে মিল সরবরাহের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল পশ্চিমবঙ্গ স্কুল শিক্ষা দপ্তর। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত জেলা জুড়ে পিএম পোষণ (PM-POSHAN) প্রকল্পের আওতায় স্কুলগুলিতে পুষ্টিকর ও মানসম্মত মধ্যাহ্নভোজন সরবরাহ করার জন্য ‘অন্নামৃত ফাউন্ডেশন’ (Annamrita Foundation)-কে নীতিগত অনুমোদন বা ‘Approval in principle’ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে কলকাতার একাধিক মর্যাদাপূর্ণ সরকারি স্কুলে ইসকনের উদ্যোগে খাবার সরবরাহ করা হলেও, এবার থেকে জেলা স্তরের স্কুলগুলিতেও এই ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ঘটানো হচ্ছে।

স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এই বিরাট কর্মযজ্ঞ একসঙ্গে সমস্ত স্কুলে চালু করা হবে না, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে রাজ্যের প্রতিটি জেলার স্কুলগুলিতে অন্নামৃত ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল রান্নার ও বিতরণের কাজ শুরু করা হবে। এই উদ্দেশ্যে রাজ্যের সমস্ত জেলার জেলাশাসক (DM), শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক এবং জিটিএ-র (GTA) শিক্ষা বিভাগের এগ্‌জ়িকিউটিভ ডিরেক্টরের কাছে সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে সেন্ট্রাল কিচেন বা কেন্দ্রীয় রান্নাঘর পরিচালনার জন্য অবিলম্বে উপযুক্ত জমি ও স্থান নির্বাচন করা হয়, ফাউন্ডেশনকে সবরকম প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির অবস্থান ও ছাত্রছাত্রী ভর্তির সঠিক তথ্য সময়মতো ফাউন্ডেশনের সঙ্গে আদান-প্রদান করা হয়। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, ফাউন্ডেশন পুরোপুরি অপারেশন শুরু করতে প্রস্তুত হলে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত ‘লেটার অফ অথরিটি’ বা অনুমোদনের চিঠি জারি করা হবে।

প্রসঙ্গত, অতীতে রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী নিজেই ঘোষণা করেছিলেন যে, কলকাতার সফল মডেলের পর ধীরে ধীরে রাজ্যের প্রতিটি জেলার স্কুলগুলিতে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হবে। বর্তমানে কলকাতা পুরসভা এলাকার সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে সেন্ট্রাল কিচেনের মাধ্যমে অত্যন্ত সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, স্কুল পড়ুয়া, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবক মহলের কাছ থেকে খাবারের গুণগত মান, পুষ্টিমূল্য, পরিচ্ছন্নতা এবং সুস্বাদু স্বাদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয় সাড়া মিলেছে। ইতিপূর্বে হাওড়া ও পুরুলিয়ার মতো কিছু নির্বাচিত জেলায় ইসকনের মাধ্যমে মিড-ডে মিল দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল এবং এর জন্য ‘অক্ষয় পাত্র ফাউন্ডেশন’-কে দায়িত্ব দেওয়া হলেও পরবর্তীতে সেই নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান নতুন নির্দেশিকার ফলে ছাত্রছাত্রীদের পুষ্টিকর খাদ্য প্রাপ্তির বিষয়টি এক নতুন মাত্রা লাভ করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।